পৃথিবীর সব মানুষ এক রকম নয় কেউ একটু বেশি চুপচাপ, কেউ নিজের জগতে ডুবে থাকতে ভালোবাসে, আবার কেউ ভিন্নভাবে অনুভব করে চারপাশকে। এই ভিন্নতাকেই আমরা অনেক সময় ভুল বুঝি। অটিজম‘স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা’। সময়ের শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত বা আচরণগত সমস্যাগুলো প্রকাশ পায়। এই বার্তাটি আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দিতে প্রতি বছর ২ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।
অটিজম একটি আজীবন নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থা, যা মানুষের সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ এবং চিন্তাভাবনার ধরনে প্রভাব ফেলে। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১২৭ জনে একজন এই অবস্থার মধ্যে থাকেন বলে ধারণা করা হয়। এত বড় একটি জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও অটিজম নিয়ে সচেতনতা এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেকেই ছোটবেলা থেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।
সমস্যার জায়গাটি এখানেই শেষ নয়। সমাজে এখনও অটিজম নিয়ে নানা ভুল ধারণা, কুসংস্কার ও বৈষম্য বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ পান না। পরিবারগুলোও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় নানা চাপে থাকেন। অথচ সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, সহানুভূতিশীল পরিবার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলে তাদের জীবন অনেকটাই সহজ ও স্বাভাবিক হতে পারে।
এই বাস্তবতা পরিবর্তনে কাজ করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তারা সরকারগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করছে, যাতে অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজের মূল ধারায় যুক্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে পরিবার ও সেবাদাতাদের প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা শুধু অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য নয়, বরং আমাদের সবার জন্যই উপকারী। কারণ, যে সমাজ ভিন্নতাকে সম্মান করতে শেখে, সেই সমাজই সত্যিকার অর্থে মানবিক ও উন্নত হয়ে ওঠে।
সূত্র: এনডিটিভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

