ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু নিজের নাম ও পদবি পরিবর্তন করেছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি সরকারি নথিতে ইয়োনাতান হান নামে নিবন্ধিত রয়েছেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করসংক্রান্ত নথিতে তার নাম ছিল ইয়াইর নেতানিয়াহু। তবে চলতি বছরের নথিতে একই পরিচয় নম্বরের বিপরীতে ইয়োনাতান হান নাম দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, আইনি ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ার মধ্যেই তার ছেলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ইয়াইর কেন নাম ও পদবি পরিবর্তন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এমন ঘটনা প্রথমবার নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর আগেও নেতানিয়াহুর ছেলে নিজেকে ইয়াইর হুন নামে পরিচয় দিয়েছিলেন। ‘হুন’ ছিল তার মা সারা নেতানিয়াহুর বাবা শমুয়েলের পারিবারিক পদবি, যা পরে পরিবর্তন করে বেন আর্টজি রাখা হয়।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলে একাধিক দুর্নীতির মামলার মুখোমুখি। পাশাপাশি গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানারও মুখোমুখি রয়েছেন তিনি।
এছাড়া নেতানিয়াহুর পরিবারেও নাম পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। ইয়াইরের ভাই অ্যাভনার কয়েক বছর আগে নিজের নাম পরিবর্তন করে আভি সেগাল রাখেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, নজরদারি এড়াতে ওই নাম ব্যবহার করে তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন।
এ ছাড়া বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় বেন নিতাই নামে পরিচিত ছিলেন। পরে তিনি জানান, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা থেকেই ওই নাম ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
হারেৎজ বলছে, নেতানিয়াহু পরিবারের নাম পরিবর্তনের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে পোল্যান্ড থেকে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপনের পর নেতানিয়াহুর বাবা বেনজিয়ন মিলেইকোভস্কি নিজের পদবি পরিবর্তন করে বেনজিয়ন নেতানিয়াহু রাখেন।
এটি ইউরোপীয় নামের পরিবর্তে হিব্রু নাম গ্রহণ করার একটি বৃহত্তর জায়নবাদী প্রথারই প্রতিফলন ছিল, কারণ বসতি স্থাপনকারীরা যে ভূমি উপনিবেশ স্থাপন করছিল, সেখানকার আদিবাসী হিসেবে নিজেদের নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি নেতাও একই ধারা অনুসরণ করেছিলেন। ইসরায়েলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন পোল্যান্ডে ডেভিড গ্রুয়েন নামে জন্মগ্রহণ করেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

