ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে যদি কোনো বিদেশি সরকার তাকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করে, তাহলে প্রয়োজনে তাকে উদ্ধার করতে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
তিনি জানান, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সমর্থন করা দেশগুলোতেও যেতে তার কোনো দ্বিধা নেই। সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, বিদেশ সফরের সময় কিংবা হঠাৎ কোনো চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়ে তিনি চিন্তিত কি না। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবি। তবে আমাদের বিশেষ বাহিনী আছে।
আমি নিজেও পাঁচ বছর সেই বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছি।’ তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল তাকে উদ্ধারে সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহু জানান, তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী নিউইয়র্ক সফরে যাবেন। আইসিসির পরোয়ানার কারণে সফর বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে। তবে এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি এই আহ্বানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মামদানিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘৃণা ছড়ানো নির্বাচিত কর্মকর্তার সামনেই সত্য কথা বলব। তিনি নিউইয়র্কের একদল মানুষকে আরেক দলের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছেন।’
গাজা যুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোহরান মামদানি প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ থেকেই আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একই সঙ্গে মামদানি স্বীকার করেন, এমন কোনো পরোয়ানা কার্যকর করার ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব মার্কিন ফেডারেল সংস্থাগুলোর। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পরোয়ানা দেওয়া হয়। আইসিসির অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহার ব্যবহার, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, হত্যা, নির্যাতন এবং পরিকল্পিত অমানবিক আচরণ। তবে নেতানিয়াহু শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, আইসিসির এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এটিকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলেও উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন তিনি ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রায় ৯০ মিনিটের ওই বৈঠক ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান উত্তেজনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে নেতানিয়াহু বলেন, এটি ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘সবচেয়ে ভালো আলোচনাগুলোর একটি’।
তিনি বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া যাবে না—এ বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যায়। বর্তমানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

