আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছিল অতি সহজেই। শনিবার তৃতীয় ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। সেই লড়াইয়ে বোলারদের পর ব্যাটসম্যানরাও দায়িত্ব নিলেন। তাতে ২৫ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল তা এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ।
৭ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশ সিরিজ শেষ করেছে ২-১ ব্যবধানে। হারারেতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ে ১৯৯ রানের বেশি করতে পারেনি। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ৩৬ ওভারে ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয়।
প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ১৪১ রানে আটকে রেখেও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল ২৫ রানে। মাত্র ১১৬ রানে গুটিয়ে যায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ২৪৭ রানের বেশি করতে দেয়নি। এবারও তীরে গিয়ে তরি ডোবায় বাংলাদেশ। ২৩৪ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরে যায় ১৩ রানে।
এবার লক্ষ্যটা যখন ছিল ২০০ তখন শঙ্কা তৈরি হওয়া ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম উদ্বোধনী জুটিতে সব কাজ সহজ করে দেন। ১৫১ রানের জুটি গড়েন তারা। যা জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। সৌম্য সরকার পনেরতম ফিফটি তুলে ৬৯ রানে বোল্ড হন চিভাঙ্গার বলে। ৬ চার ও ২ ছক্কা ছিল তার ইনিংসে।
অন্যদিকে তানজিদ ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু শেষ দিকে সেঞ্চুরি করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন। তার রান ছিল ৯৪। সেঞ্চুরির জন্য চাই ৬ রান। আর তখন দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ রান। ওই অবস্থায় বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া তানজিদ ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৪ রান করেন। জয়ের থেকে ৩ রান দূরে থাকতে তাওহীদ হৃদয় আউট হন শূন্য রানে। শেষ দিকে খানিকটা রোমাঞ্চ ছড়ালেও বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যায় সহজে।
জয়ের পেছনে জিম্বাবুয়ের ফিল্ডারদের অবদানও কম নয়। গুনেগুনে পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছেন তারা। তাতে তানজিদ ও সৌম্যর ইনিংস বড় করতে পেরেছেন।
এর আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন শরিফুল ইসলাম। একাদশে ফিরে শরিফুল ১০ ওভারে ৪৪ রানে ৪ উইকেট নেন। বাংলাদেশের আঁটসাঁট বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাথা তুলে লড়াই করেন ওয়েসলি মাধভেরে। ইনিংসের শুরুতে রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে জীবন পাওয়ার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনায়েস ব্যাটিংয়ে রান তুলেন। ৭৪ বলে ৭৫ রান করেন ৫ চার ও ১ ছক্কায়।
এ ছাড়া শেষ দিকে ৫০ রান করেন ব্রাড ইভান্স। ৪৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ইভান্স নিজের ইনিংসটি সাজান। এ ছাড়া ইনোসেন্ট কাইয়া করেন ২৫ রান। বাকিরা কেউ বিশের ঘর পেরোতে পারেননি। শেষ দিকে ইভান্সকে থামানো গেলে বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও কিছুটা কমে আসতো।
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারানো পর বাংলাদেশের সামনে এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজের চ্যালেঞ্জ। ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই তিন টি-টোয়েন্টি হবে বুলাওয়েতে।

