প্রিয় শিল্পীর মৃত্যু, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া আর ন্যায়বিচারের অপেক্ষা সব মিলিয়ে আসামে আবারও জোরালো হচ্ছে জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবি। এবার সেই দাবিতে একজোট হয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের তিন রাজনৈতিক দল। কংগ্রেস, রাইজর দল ও অসম জাতীয় পরিষদ যৌথভাবে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে প্রয়াত সংগীতশিল্পীর স্ত্রী গরিমা শইকীয়া গার্গের।
দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) আসামের কামরূপ মহানগর জেলার সোনাপুরে জুবিন গার্গ ক্ষেত্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জনসভায় আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য, শিল্পীর পরিবারের সদস্য এবং অনুরাগীরা অংশ নেন। আন্দোলনের লক্ষ্য, জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে জনমত তৈরি করা এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
রাইজর দলের বিধায়ক অখিল গগৈ জানান, জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে গোটা আসামে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তার অভিযোগ, এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মানুষ এখনও ন্যায়বিচার পাননি। তাই দ্রুত আন্দোলন শুরু করে সরকারের ওপর জনমতের চাপ তৈরি করা প্রয়োজন। অখিল গগৈ আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা বা পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জুবিনের প্রতি ভালোবাসা ও ন্যায়বিচারের দাবিই হবে এর মূল ভিত্তি। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনসভায় উপস্থিত গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী নেকিবুর জামান অভিযুক্তদের জামিনের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি সময় হেফাজতে থাকার পর মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দুজন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান তিনি। আসাম সরকারও জামিনের বিরোধিতা করে গৌহাটি হাইকোর্টে আবেদন করার পরিকল্পনা করছে।
গত অক্টোবরে জুবিনের আত্মীয় এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আসাম পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সন্দীপন গার্গকে জামিন দেয় গৌহাটি হাইকোর্ট। এর আগে ৯ অক্টোবর জুবিনের সহশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তও জামিন পান। এই মামলায় জামিন পাওয়া প্রথম অভিযুক্ত তিনি। বিশেষ সরকার পক্ষের আইনজীবী জিয়াউল কামারের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ হাজার রুপির বন্ডে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের পর বিশেষ তদন্তকারী দল তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।

