ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিশরের পার্লামেন্ট। এর ফলে সৌদি আরব ও হুতিদের চলমান সংঘাতে মিশরও জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জানিয়েছেন, এই সহায়তা হবে কেবল প্রতিরক্ষামূলক।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দেয়ার অনুমোদন চেয়ে পার্লামেন্টের কাছে আবেদন করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। হুতিদের অগ্রযাত্রা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির জন্যও হুমকি তৈরি করছে। এই প্রণালি মিশরের সুয়েজ খালে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ মিশরের সামরিক বাহিনীও এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ। ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছিল দেশটি। সে সময় মূলত নৌবাহিনীর অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখে মিশর। দেশটি প্রায় ৮০০ স্থলসেনাও মোতায়েন করেছিল, তবে সরাসরি যুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল সীমিত।
এর আগে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে সম্ভাব্য অনুমোদন প্রস্তাব নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয় মিশরের পার্লামেন্টে। মিশরের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার জন্য প্রায় ৫০০ আইনপ্রণেতা আবেদন করেন।
মিশরের সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ এবং পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ ঘোষণা করতে বা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারেন না।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সভাপতিত্বে মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ গত সপ্তাহে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। তবে সৌদি আরবকে দেয়া সামরিক সহায়তা কেবল আত্মরক্ষামূলক হবে বলে জোর দিয়েছেন আল-সিসি।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর থেকে বিদেশে বড় পরিসরে স্থলসেনা মোতায়েন করেনি মিশর।

