বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৩তম আসর আয়োজন নিয়ে দেশের ক্রিকেট পরিমণ্ডলে চলমান সব গুঞ্জন ও ধোঁয়াশার অবসান ঘটেছে। ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির দায়িত্বে এসে জোড়াতালি দিয়ে বিপিএল না চালানোর যে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল, সেটিই বজায় রাখলেন তিনি। এবার আরও একবার পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, চলতি বছরে মাঠে গড়াচ্ছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে ‘গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি’র আনুষ্ঠানিক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তামিম ইকবাল।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, “এ বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একেবারেই নতুন একটি রূপরেখা ও ফর্মুলা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যালেন্ডারটি প্রকাশ করব। নতুন এই পরিকল্পনাটি বেশ ভিন্নধর্মী ও ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চকর হবে।”
এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারি এবং ২০২১ সালে মহামারি করোনার কারণে বিপিএল আয়োজন স্থগিত রাখা হয়েছিল। এবার টুর্নামেন্ট স্থগিত করার পেছনে বেশ কিছু প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত জটিলতার কথা প্রকাশ্যে আনেন বোর্ড প্রধান।
তামিম ইকবাল জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর বোর্ডের নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করা ছিল মূল অগ্রাধিকার। এর পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর গাফিলতি ও বিসিবির আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিপিএল বারবার সংকটে পড়ার বড় কারণ নিয়ম-নীতির চরম শিথিলতা। রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অধিকাংশ দলেরই স্থায়িত্ব ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। রাজশাহী বকেয়া পরিশোধ করলেও সার্বিক নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল।”
লোকসান গুনে বিপিএল না চালানোর শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, “কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের মাঝপথে সরে দাঁড়ালে বা নিয়ম অমান্য করলে তার আর্থিক দায়ভার বিসিবির ওপর এসে পড়ে। বিগত দুই বছরে এভাবে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে তো বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, ক্ষতি কেন হবে? এই মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না করে টুর্নামেন্ট চালানো যুক্তিসঙ্গত নয়।”
তবে বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই জানিয়ে তামিম বলেন, বিপিএল চালুর বিষয়ে বোর্ডের সদিচ্ছা পুরোপুরি রয়েছে। তবে তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যদি ৬ মাস বা ১ বছর সময়ও লাগে, বোর্ড সেই সময় নেবে। ইতিমধ্যেই খেলাপি ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

