বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছেই। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না—সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির ব্যক্তিগত।
টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, মেসিকে ঘিরে অযথা গুঞ্জন না ছড়িয়ে তাকে সময় দেওয়া উচিত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২২ বিশ্বকাপের আগেও মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল।
তাপিয়ার ভাষ্য, “এটি পুরোপুরি লিওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমাদের উচিত তাকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া। ২০২২ সালেও আমরা জানতাম না, সে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে কি না। সে সব সময় ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চেয়েছে।”
জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রশংসা করে এএফএ সভাপতি বলেন, স্কালোনিই আর্জেন্টিনার ‘প্ল্যান এ, বি এবং সি’।
বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স নিয়েও উচ্ছ্বসিত তাপিয়া।
তাপিয়া আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিশ্বকাপে আমরা লিওর সর্বকালের অন্যতম সেরা এক সংস্করণ দেখেছি। আমাদের উচিত তাকে নির্ভার হয়ে ফুটবল উপভোগ করতে দেওয়া, আর এরপর যা সঠিক মনে হয়—সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সুযোগ তার ওপরে ছেড়ে দেওয়া।
স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের বেদনা থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও বল পায়ে আলো ছড়িয়েছেন ৩৯ বছর বয়সি এই ফুটবলার।
মেসির পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে তাপিয়া বলেন, ‘লিওর জন্য এটি ছিল এক দুর্দান্ত বিশ্বকাপ। আমরা এটি ভীষণ উপভোগ করেছি এবং আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপে তিনিই ছিলেন দলটির মূল কান্ডারি। যদি তার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেন, তবে আমার চোখে তিনিই ছিলেন পুরো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। একের পর এক ম্যাচে তিনি রেকর্ড ভেঙেছেন।’
মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তাপিয়া। তিনি বলেন, প্রতিটি ম্যাচের পর মেসির সঙ্গে কোলাকুলি ও আলাপের স্মৃতি সারাজীবন মনে রাখবেন। তাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সম্পর্ককেই তিনি নিজের বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।

