spot_img

ঐতিহাসিক গোল করেও বিদায় হাইতির, রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে মরক্কো

অবশ্যই পরুন

দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মরক্কো। হাইতির সাহসী লড়াই ও চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ভেঙে শেষ পর্যন্ত রাজসিক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। স্কোরলাইন ৪-২।

এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, নিশ্চিত হয়েছে নকআউট পর্বের টিকিটও। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের পর দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো, আর স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লড়াকু হাইতির।

এই ম্যাচে হাইতির জন্য তেমন কিছু পাওয়ার ছিল না। বিশ্বকাপ থেকে তারা আগেই বিদায় নিয়েছে। কিন্তু এই ম্যাচেই সবচেয়ে বড় অর্জনে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছেন তারা। প্রায় ১৯ হাজার দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও গোলের দেখা পায় হাইতি।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কিংবদন্তি ইমানুয়েল মান্নো সাননের গোলের পর আর কোনো বিশ্বকাপে গোল করতে পারেনি ক্যারিবীয় দেশটি। অবশ্য এই দীর্ঘ সময়ে হাইতি বিশ্বকাপের মূল পর্বেই খেলতে পারেনি। ২০২৬ আসরে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি প্রথম দুই ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলের দেখা পায়নি।

নিজেদের শেষ ম্যাচে মরক্কোকে চমকে দিয়ে শুরুতেই এগিয়ে যায়। আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১০ মিনিটে ইতিহাস গড়েন জোসেফ। ডান প্রান্ত থেকে ডুভের্নের নিচু ক্রস পেয়ে চমৎকার এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে পাঠান তিনি। তাতেই শেষ হয় হাইতির ৫২ বছরের বিশ্বকাপ গোল-খরা।

গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর সমতা ফেরাতে অপেক্ষা করতে হয় ৩৯ মিনিট পর্যন্ত। দলের তারকা ফুটবলার ও অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর দায়িত্বটা নিজ কাঁধে নেন। হাইতির গোলরক্ষক প্লাসিদের জন্য এটি ছিল এক দুঃস্বপ্নের মুহূর্ত। ডিফ্লেক্টেড ক্রস ঠেকিয়ে দিলেও নিরাপদে সরাতে পারেননি। বরং সেটি গোললাইনের কাছেই বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যায়। ঠিক তখনই হাকিমি দ্রুত সামনে ছুটে এসে সুযোগটি লুফে নেন। কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে মরক্কোকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন।

গোল হতেই আটলান্টা স্টেডিয়ামে মরক্কোর সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। কিন্তু চার মিনিট পর আবার ভাঙে তাদের হৃদয়। উইলসন ইসিডর ডান প্রান্তে পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে বল পান। এরপর এক টাচ নিয়ে শট নেওয়ার নিজের জায়গা তৈরি করেন। এরপর দ্রুতগতির শটে বল লক্ষ্যভেদ করে। মনে হচ্ছিল, প্রথমার্ধে হাইতি লিড নিয়ে বিরতিতে যাবে। কিন্তু তেমন কিছু হলো না।

হাইতির আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। চোখের পলকেই ম্যাচে ফিরে মরক্কো! ডিফেন্সের পেছনে দারুণভাবে বল পেয়ে যান হাকিমি। চমৎকার দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি বক্সের ভেতরে নিচু একটি ক্রস বাড়ান। ঠিক তখনই বক্সে ঢুকে পড়া সাইবারি বলের গতিকেই কাজে লাগিয়ে নিখুঁত ফিনিশে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মরক্কো হাইতিকে সুযোগই দিল না মাথা উচুঁ করে লড়াই করার। নিজেদের সবকুটু শক্তি ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে হাইতিকে উড়িয়ে দিল। কোনো গোল হজম না করে উল্টো ২ গোল করে নিজেদের প্রত্যাবর্তন রাঙিয়েছেন দারুণভাবে। ৭৮ মিনিটে সোফিয়ান রাহিমি ও ৮৯ মিনিটে গেসিম ইয়াসিন গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন।

এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে মরক্কো। ব্রাজিলের অবস্থান শীর্ষে।

সর্বশেষ সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়াকে চমকে দিয়ে প্রথমবার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

নিজেদের চাইলে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে তলানিতে থেকে গ্রুপের শেষ রাউন্ড শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ