মাঠে তখন গোলের জন্য হন্যে হয়ে লড়ছে দুই দল। ঠিক এমন মুহূর্তে অবিশ্বাস্য এক ভুল করে বসলেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। হাত ফসকে বেরিয়ে যাওয়া বল ফাঁকা বক্সে পেয়ে জালে জড়াতে একদমই ভুল করলেন না লুইস রোমো। প্রতিপক্ষের উপহার দেওয়া সেই একমাত্র গোলেই জয় উদযাপনের পাশাপাশি সবার আগে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করল টুর্নামেন্টের সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো।
গুয়াদালাজারায় বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মেক্সিকো। ম্যাচের ৫০ মিনিটে কিম সেউং-গিউয়ের মারাত্মক ভুলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন রোমো।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে দারুণভাবে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকোর কাছে এই হারে নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার জন্য এশিয়ার পরাশক্তিদের এখন শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে দক্ষিণ কোরিয়া। আর ১ পয়েন্ট করে নিয়ে পরের দুটি অবস্থানে রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
আজকের ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক চুলও ছাড় দেয়নি। বল দখলের লড়াইয়ে ৫৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রেখে কিছুটা এগিয়ে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দলই প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে সমান ৮টি করে শট নেয়। তবে মেক্সিকোর নেওয়া শটগুলোর মধ্যে অন-টার্গেট (লক্ষ্য বরাবর) শট বেশি ছিল (৪টি)।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের ফরোয়ার্ডরাই ডেডলক ভাঙার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভাগ্যের জোরালো ছোঁয়া পায় মেক্সিকো।
ম্যাচের ৫০ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার এক ক্রস বাড়ান হুলিয়ান কুইনেনোস। কোরিয়ান গোলরক্ষক বলটি বিপদমুক্ত করতে এগিয়ে এলেও বল গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হন। তাঁর হাত থেকে ফসকে যাওয়া বলটি তখন পেনাল্টি স্পটের কাছে একদম ফাঁকায় পেয়ে যান লুইস রোমো। ৩১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল ফাঁকা জালে পাঠিয়ে মেক্সিকান গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসান।
এমন অবিশ্বাস্য ভুলে গোল হজম করে কিছুটা থমকে গেলেও ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। সমতায় ফিরতে বেশ কিছু চমৎকার আক্রমণও সাজায় তারা। কিন্তু মেক্সিকোর রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় এশিয়ান জায়ান্টদের।

