spot_img

মরক্কোর মহাসড়কে নিজের নামে নামকরণে ট্রাম্পের কৃতজ্ঞতা

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মরক্কো একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের নাম তার নামে রেখেছে। এই ঘোষণা অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর কারণ মরক্কো সরকার (রাবাত) এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

রোববার ট্রুথ সোস্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ ভাই-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি একদিন ‘গ্রেট হাইওয়ে’-তে ভ্রমণের অপেক্ষায় আছেন।

তবে বিষয়টি নিশ্চিত হলে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মান প্রদর্শন খুব একটা অপ্রত্যাশিত হবে না। মরক্কো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ট্রাম্পের দুই দফা প্রশাসনই রাবাতের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক ছিল।

২০২০ সালে মরক্কো ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া আব্রাজাম একর্ডস-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ ছিল। এর মাধ্যমে মরক্কো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক পর্যায়ে মরক্কোকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেয়, যা বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা অঞ্চলের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাবাতকে সহায়তা করে।

মিডলইস্ট ইনিস্টিটিউট-এর বিশ্লেষক ইনতিসার ফাকির বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত যে মরক্কো ট্রাম্পের জন্য এমন কিছু করবে। কারণ পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে তিনিই একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রশাসন, যিনি মরক্কোকে তার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত স্পষ্ট সমর্থন দিয়েছেন।’

তবে ফাকিরের মতে, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সময় নির্বাচন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মরক্কোর অবস্থানকে সমর্থনকারী একটি প্রস্তাবের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল। তাহলে এখন এই স্বীকৃতি কেন?

ফাকিরের মতে, এর সঙ্গে মরক্কোর ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের আকাঙ্ক্ষার সম্পর্ক থাকতে পারে। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।

অন্যদিকে, তিনি বলেন, সম্ভবত মহাসড়কের যে অংশটির নাম ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে, সেটি সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও এমন ঘোষণা এখন এসেছে।

মহাসড়কটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

তিজনিত-দাখলা মহাসড়ক বৃহত্তর অবকাঠামো প্রকল্পের অংশ, যার লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে মরক্কোর উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা।

প্রায় ১,০৫৫ কিলোমিটার (৬৫৫.৫ মাইল) দীর্ঘ এই মহাসড়ক দক্ষিণ মরক্কোকে মৌরিতানিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। এর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

সড়কটি:

তিজনিত থেকে শুরু হয়ে গুলেমিম ও তান-তান হয়ে যায়;
পশ্চিম সাহারার মরক্কো-নিয়ন্ত্রিত প্রধান শহর লায়ুনের মধ্য দিয়ে যায়;
এরপর দক্ষিণে দাখলা উপদ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছায়, যেখানে মরক্কো ডাখলা আটলান্টিক পোর্ট নির্মাণ করছে।

মরক্কো দীর্ঘদিন ধরে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যবর্তী অবস্থান কাজে লাগিয়ে ইউরোপ, আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগকেন্দ্র হতে চায়।

২০২৩ সাল থেকে মরক্কো “আটলান্টিক উদ্যোগ” নামে একটি পরিকল্পনা প্রচার করছে, যার মাধ্যমে মালির মতো স্থলবেষ্টিত সাহেল দেশগুলোকে আটলান্টিক বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জার্মান থিংক ট্যাংক কোনার্ড এডেনাউর -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মরক্কোর মাধ্যমে আফ্রিকান রপ্তানি ৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

দীর্ঘদিনের বিতর্কিত অঞ্চল: পশ্চিম সাহারা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ‘ট্রাম্প হাইওয়ে’ পশ্চিম সাহারার মধ্য দিয়ে গেছে—যে অঞ্চলকে জাতিসংঘ ‘স্বশাসনের অধিকার না পাওয়া অঞ্চল’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

মরক্কো এই অঞ্চলকে তার ‘দক্ষিণাঞ্চল’ বলে দাবি করে এবং গত দুই দশকে সেখানে রাস্তা, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

মরক্কো দাবি করে যে, ফসফেট ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এই সাবেক স্প্যানিশ উপনিবেশ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, আলজেরিয়া-সমর্থিত পোলিসারিও ফ্রন্ট পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতা দাবি করে এবং ১৯৭৫ সালে স্পেন প্রত্যাহারের পর সাহরাউই আরব ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক ঘোষণা করে।

এরপর ১৬ বছর যুদ্ধ চলে। এতে কয়েক লাখ সাহরাউই মানুষ পশ্চিম আলজেরিয়ার তিন্দুফ এলাকার শরণার্থী শিবিরে পালিয়ে যায়। জাতিসংঘের মানবিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ সাহরাউই শরণার্থী বসবাস করছে, যদিও মরক্কো এই সংখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে।

১৯৯১ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয় এবং একটি গণভোটের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু ভোটারদের যোগ্যতা ও ভোটের শর্ত নিয়ে বিরোধের কারণে সেই প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে যায়।

প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিতর্ক

কিছু সাহরাউই সংগঠন ও মরক্কোর সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, রাবাত পশ্চিম সাহারার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করছে।

ওয়েস্টার্ন সাহারা রিসোর্স ওয়াচ-এর এরিক হাগেন বলেন, গত কয়েক বছরে বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, মৎস্য ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে।

পশ্চিম সাহারার ফসফেট মজুদ অঞ্চলটির অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। ওই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পশ্চিম সাহারা থেকে প্রায় ২০ লাখ টন ফসফেট পাথর উত্তোলন করা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

ফুটবল বিক্রির জন্য নয়, ফিফাকে কড়া বার্তা উয়েফার

উয়েফার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো। এমন খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও বিবিসি। বিশ্ব...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ