আসন্ন বিশ্বকাপের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ৫৫ সদস্যের বিশাল প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে হেক্সা জয়ের মিশনে নামতে যাওয়া ব্রাজিল। তবে সেই তালিকায় বড় চমক চেলসির তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওর অনুপস্থিতি। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালকের, ফুটবল বিশ্বে যাকে অনেকেই ‘মেসিনহো’ নামে চেনেন।
লিওনেল মেসির জাদুকরী ড্রিবলিং আর রোনালদিনহোর সৃজনশীলতার এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায় এস্তেভাওর খেলায়। সেই শৈশব থেকেই তার গতি আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেয়ার ক্ষমতার কারণে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সার্কেলে তাকে ডাকা হয় ‘মেসিনহো’। গত মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে ৮ গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি।
তবে এস্তেভাওর এই দুর্ভাগ্য শুরু হয় গত এপ্রিলে। চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে খেলার সময় ডান উরুতে গুরুতর চোট পান তিনি। এরপর থেকেই সময়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন ফিটনেস ফিরে পেতে।
ইএসপিএনের তথ্যমতে, চেলসি ও ব্রাজিল জাতীয় দলের মেডিকেল টিম তার ফিটনেস নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিতেই কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এস্তেভাওয়ের আগে রিয়াল মাদ্রিদের এদের মিলিতাও এবং রদ্রিগোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দুজন চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছিলেন।
ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি শুরু থেকেই এস্তেভাওর দারুণ ভক্ত ছিলেন। তার কৌশলে এই তরুণকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা থাকলেও ইনজুরি সব হিসাব ওলটপালট করে দিল। চিকিৎসার জন্য সাবেক ক্লাব পালমেইরাসে ফেরার সময় বিষণ্ণ এস্তেভাওকে দেখে ভক্তরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার আলো ছড়ানো না হলেও, চেলসির এই তরুণের সামনে পড়ে আছে বিশাল ভবিষ্যৎ। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারলে সেলেসাওদের পরবর্তী সোনালী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেবেন এই ‘মেসিনহো’-ই।

