ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ ‘টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’—এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করেন তিনি।
ভিডিওতে ব্যাপক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেলেও ট্রাম্পের পোস্টটি খার্গ দ্বীপে হামলার হুমকি কি না, নাকি সেখানে হামলা চলছে—তা স্পষ্ট নয়। পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পরও দ্বীপটিতে হামলা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প পোস্টে লিখেছেন, ‘খার্গ দ্বীপ টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি (ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প)।’ তবে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে থাকা বিস্ফোরণের দৃশ্যটি সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি। এআই দিয়ে পরিবর্তিত ছবি শনাক্ত করতে সক্ষম একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভিডিওটি পরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে দ্বীপটিতে হামলা হলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে এবং দেশটির অর্থনীতির ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তবে কোনো আগ্রাসনের মুখে ইরান নীরব থাকবে না এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেবে।
কিরগিজস্তান সফরের আগে সোমবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো আগ্রাসনের মুখে নীরব থাকব না এবং আগ্রাসীদের কঠোরভাবে জবাব দেব।’
তবে ট্রাম্পের খার্গ দ্বীপবিষয়ক পোস্টের আগে না পরে পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী সোমবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জর্ডানে হামলার লক্ষ্য ছিল লারাক দ্বীপে হামলায় ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলো। অন্যদিকে ইরানি সেনাবাহিনী বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, উপসাগরীয় জলসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে দুটি নৌমাইনে আঘাত পেয়ে একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি পুরোপুরি থেমে যায়।
জুলাইয়ের শেষ দিকে সামরিক অভিযান থেকে সরে গিয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে এগিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পর সামরিক উত্তেজনাও আবার বেড়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে প্রতি সপ্তাহেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্য করা হবে বলে জানান তিনি।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের অর্থ ও দেশটির সরকারের সঙ্গে লেনদেন চালিয়ে যাওয়া ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকেই বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।
এদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। জুলাইয়ের শেষের পর এটিই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য সামরিক হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

