সকালে লেবু পানি, বিকেলে ফলের জুস কিংবা নিয়মিত দই—স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনে হলেও এসব খাবার ও পানীয় দাঁতের জন্য কতটা নিরাপদ, তা কি জানেন? এসব খাবারে থাকা অ্যাসিড দীর্ঘদিন ধরে দাঁতের সংস্পর্শে এলে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে দাঁতের সবচেয়ে শক্ত আবরণ এনামেল।
একবার এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীর নিজে থেকে তা পুনরায় তৈরি করতে পারে না। তাই প্রতিদিনের খাবার ও পানীয় গ্রহণের অভ্যাসে সচেতন থাকা জরুরি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
দাঁতের সবচেয়ে বাইরের স্তর হলো এনামেল। এটি মানবদেহের সবচেয়ে শক্ত পদার্থগুলোর একটি। মূলত ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মতো খনিজ দিয়ে তৈরি এই স্তর দাঁতকে ক্ষয়, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং প্রতিদিনের চিবানো ও দাঁত ঘষার চাপ থেকে সুরক্ষা দেয়।
তবে হাড়ের মতো এনামেলে জীবন্ত কোষ নেই। ফলে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি নিজে থেকে পুনরায় তৈরি হতে পারে না। যদিও দাঁতের কিছু প্রাকৃতিক খনিজ পুনরায় জমা হতে পারে, তবে হারিয়ে যাওয়া এনামেল পুরোপুরি ফিরে আসে না।
লেবু, কমলা, বিভিন্ন ধরনের বেরি, ফলের জুস ও কোমল পানীয়সহ অনেক পরিচিত খাবার ও পানীয়তে অ্যাসিড রয়েছে। এক-দুবার এসব খাবার গ্রহণে সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বারবার অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করলে দাঁতের এনামেল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যেতে পারে।
ভারতে করা বিভিন্ন গবেষণাতেও অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় গ্রহণের সঙ্গে দাঁতের ক্ষয়ের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় নিয়মিত লেবু খাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। যেমন দইয়ের সঙ্গে নিয়মিত লেবু, বেরি বা কমলার জুস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে দাঁত অতিরিক্ত অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসতে পারে। এর ফলে ঠান্ডা বা গরম খাবার খাওয়ার সময় দাঁতে শিরশির বা সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে।
যেভাবে দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত রাখবেন
১. অ্যাসিডিক খাবার দীর্ঘ সময় ধরে খাবেন না
কয়েক ঘণ্টা ধরে অল্প অল্প করে জুস বা কোমল পানীয় পান না করে একবারে পান করা ভালো। এতে দাঁত দীর্ঘ সময় অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকার ঝুঁকি কমে।
২. খাবারের পর পানি দিয়ে কুলি করুন
লেবু, ফলের জুস বা কোমল পানীয় গ্রহণের পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে কুলকুচি করে নিতে পারেন।
৩. খাওয়ার পরপরই দাঁত ব্রাশ করবেন না
অ্যাসিডিক খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে দাঁত ব্রাশ করা ভালো। এতে মুখের লালা অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমিয়ে এনামেলকে পুনরায় শক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়।
৪. ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন
ফ্লোরাইড দাঁতের দুর্বল অংশে খনিজ পুনঃস্থাপনে সহায়তা করে এবং এনামেলকে শক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে।
৫. দাঁতে সমস্যা হলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন
দাঁতে অতিরিক্ত শিরশির, ব্যথা, রং পরিবর্তন বা খাবার খাওয়ার সময় অস্বস্তি হলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাঁতের এনামেল একবার ক্ষয়ে গেলে তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি কখন, কতবার এবং কীভাবে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করছেন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। সামান্য সচেতনতাই দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

