spot_img

ফোন না দেখলে খেতেই চায় না শিশু, মুক্তির ৩ উপায়

অবশ্যই পরুন

খাওয়ার সময়ে মুঠোফোনে কার্টুন বা ভিডিও না দেখালে খাবার মুখে তুলতে চায় না— বর্তমান সময়ের প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই এটি একটি পরিচিত ও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো সমস্যা। প্রথম দিকে সন্তানকে শান্ত রাখতে মোবাইল হাতে দেওয়াটা সহজ সমাধান মনে হলেও ধীরে ধীরে এটি মারাত্মক অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে করিনা কপূর ও আলিয়া ভট্টের মতো তারকাদের খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর জানাচ্ছেন, একটু কৌশল অবলম্বন করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

যে কারণে স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ে শিশুরা:
খাওয়ার সময়ে ফোনের উজ্জ্বল ছবি, নানা শব্দ ও দ্রুত বদলে যাওয়া দৃশ্য শিশুর অবুঝ মনকে খাবারের থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে পর্দায় আটকে রাখে। ফলে সে বায়না না করে হয়তো খাবার শেষ করে, কিন্তু কখন খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছে বা তার পেট ভরেছে কি না— সেই স্বাভাবিক সংকেতগুলো সে বুঝতে শেখে না। দীর্ঘ দিন এমন চলতে থাকলে শিশুর ক্ষুধা-তৃপ্তির স্বাভাবিক বোধ নষ্ট হতে পারে, খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং খাওয়ার জন্য ডিভাইসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি, পরিবারের সঙ্গে গল্প করা কিংবা খাবারের স্বাদ-গন্ধ ও গঠন অনুভব করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক অভিজ্ঞতা থেকেও বঞ্চিত হয় শিশুরা।

তবে হুট করে ফোন কেড়ে নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে স্ক্রিন-টাইম কমানোর পরামর্শ দিয়ে ঋজুতা সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘সন্তান ফোন ছাড়া খাচ্ছে না? চিন্তা করবেন না। আপনি একা নন। ভাববেন না, আপনার ভুলে এটা হয়েছে। কারণ, ফোন আসক্তি তৈরি করার জন্যই তৈরি। অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েন সন্তানদের বায়নায়। কিন্তু এই সময়ে সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।’’

ঋজুতা দিবেকরের বাতলে দেওয়া ৩ সহজ উপায়:

১. নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ: মধ্যাহ্নভোজ এবং নৈশভোজের সময় নির্দিষ্ট করে দিন। এতে সন্তানের শরীরে স্বাভাবিক ক্ষুধার একটি চক্র তৈরি হবে, ফলে সঠিক সময়ে খিদে পাওয়ার কারণে সে ফোন ছাড়াই নিজে থেকে খেতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়া: একা একা খাওয়ানোর বদলে পরিবারের বড়দের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার নিয়ম চালু করুন। সবার সঙ্গে গল্প করতে করতে খেতে পারলে তার মন ফোনের দিকে আর থাকবে না।

ধীরে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস: তাড়াহুড়ো না করে খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করান। মনস্তত্ত্বে যাকে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা সচেতন ভাবে খাওয়া বলা হয়। এর ফলে শিশু খাবারের প্রকৃত স্বাদ বুঝতে শুরু করে এবং ফোনের প্রতি নির্ভরতা ধীরে ধীরে কেটে যায়।

সবশেষে পুষ্টিবিদ মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই পথেই যে রাতারাতি সব সমাধান হয়ে যাবে, এমন নয়। তবে ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, ‘ধীরে ধীরে এর ফল পেতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এক বারও যদি ফোন বা টিভি না দেখে সন্তান খাবার খায়, তা হলেই সেটা আপনার জয়।’

সর্বশেষ সংবাদ

অস্ত্রোপচার চলাকালীন চিকিৎসকদের গান শোনালেন সোনু নিগম

অপারেশন থিয়েটারে চলছে অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকেরা ব্যস্ত, আর অপারেশন টেবিলে শুয়েই গান গাইছেন সোনু নিগম। শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও গান থেকে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ