ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ায় পাঠাতে প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার সঙ্গে এই প্রস্তাবের মিল রয়েছে। খবর জর্ডানভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম রোয়া নিউজের।
সম্প্রতি মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি।
ওই বৈঠকে আলী লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি ব্যক্তিগত বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন। আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার অংশ হিসেবে রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম পাঠানোর বিষয়ে ইরানের আগ্রহের কথা জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কেবল পারমাণবিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক আলোচনায় সমাধানের বিষয়ে তেহরান আশাবাদী। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থাহীনতার কথাও তুলে ধরেন, বিশেষ করে অতীতে চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের একতরফা সরে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না। বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছে তেহরান, যেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ইরানের বাইরে পরিচালিত হবে।
রাশিয়া এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো।
উল্লেখ্য, জেসিপিওএ চুক্তির আওতায় অতীতেও ইরানের অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়া গ্রহণ করেছিল।
এদিকে আয়াতুল্লাহ খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এমন বক্তব্যের মধ্যেই আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। সেখানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সম্ভাব্য আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকবে কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ ছাড়া কোনো চুক্তি হলে তা তাদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তারা অস্তিত্বগত ঝুঁকি হিসেবে দেখছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার তুরস্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আরব কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তাম্বুলে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। সেখানে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

