পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে দক্ষিণ কোরিয়ার যেকোনো ধরনের সামরিক উপস্থিতি বা অভিযানমূলক অংশগ্রহণকে ‘আগ্রাসী পক্ষের প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। একই সঙ্গে এমন কোনো পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সিউলকে সতর্ক করেছে তেহরান।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কোরীয় ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
পোস্টে বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। এই দীর্ঘ সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং তেহরান দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করেই সিউলকে সতর্ক করেন তিনি।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি জনগণ বর্তমানে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় নিয়োজিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালীতে অন্য কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা অভিযানমূলক অংশগ্রহণকে ইরান আগ্রাসী পক্ষের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনৈতিক মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারের উচিত নয় ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসী ও জঘন্য কর্মকাণ্ডে’ অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন চাপ বা জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করা।
তেহরানের এই বার্তায় একদিকে যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে তৃতীয় কোনো দেশের সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে ইরানের কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো সামরিক তৎপরতা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়াকে দেওয়া তেহরানের এই সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। মেহের নিউজ

