ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা করেছে বাগদাদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল ইরাক।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, ‘এই মাইলফলক যুদ্ধকালীন জোটের মিশন থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উত্তরণের সূচনা করেছে। এতে আরও স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্কের মাধ্যমে ইরাককে সহযোগিতা করা হবে। ১২ বছরের এই অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আইএসআইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে।’
পার্নেল বলেন, ‘ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইএসআইএসের অবশিষ্ট সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চলমান কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবে। তবে ইরাকি অংশীদারদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর। আইএসআইএসের অবশিষ্ট সদস্য এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ ইরাকের বাকি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব এখন ইরাক সরকারের।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাগদাদ ও ওয়াশিংটন ইরাকে জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে একমত হয়। এ জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ইরাক ও জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ছিল।
২০১৪ সালে আইএসআইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গঠন করা হয়। আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় জোট ইরাকি বাহিনীকে বিমান সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রশিক্ষণ দেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইরাক ঘোষণা করে, আইএসআইএসের দখলে যাওয়া সব এলাকার ওপর তারা আবারও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

