spot_img

মস্তিষ্কে চিপ বসানোর প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলছে চীন

অবশ্যই পরুন

ইলন মাস্কের কোম্পানি নিউরালিংকের মতো মস্তিষ্কে চিপ বসানো বা ব্রেইন ইমপ্ল্যান্ট প্রযুক্তি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। স্ট্রোক, পারকিনসন্সসহ জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বড় সম্ভাবনা তৈরি করা এই প্রযুক্তি এখন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেস গঠিত ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন অন এমার্জিং বায়োটেকনোলজির এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে নিউরালিংক, প্রিসিশন নিউরোসায়েন্স ও সিনক্রনের মতো প্রতিষ্ঠান বিসিআই প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চালাচ্ছে। এরই মধ্যে মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগীদের হাতের নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে বিসিআই প্রযুক্তির প্রথম বাণিজ্যিক অনুমোদন দিয়েছে চীন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সিক্স-জি প্রযুক্তির মতো বিসিআইকেও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে বিবেচনা করছে বেইজিং। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন, তথ্য সংগ্রহ ও বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রে চীনের দ্রুত অগ্রগতির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চিকিৎসা প্রযুক্তি বাজারে আনতে জটিল প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার কারণে গড়ে ১১ বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়। কমিশনের চেয়ারম্যান সিনেটর টড ইয়ং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও দ্রুতগতিতে চীন বিসিআইয়ের মতো কৌশলগত প্রযুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে। উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমন্বিত বায়োটেকনোলজি কৌশল প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর নৈতিকতা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে। মস্তিষ্ক থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের মালিকানা কার থাকবে এবং বিদ্যমান তথ্য সুরক্ষা আইন এসব ডেটার ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, চীনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট গোপনীয়তা নীতি বা ডেটা সুরক্ষা আইনও এখনো গড়ে ওঠেনি।

বিসিআই প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠেনি। অনেক ইমপ্ল্যান্ট প্রথম বছরের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। পাশাপাশি মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত ও সুস্থ রোগী খুঁজে পাওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে চিকিৎসার বাইরেও এ প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভবিষ্যতে চিন্তার মাধ্যমে ড্রোনের দল নিয়ন্ত্রণের মতো কাজেও বিসিআই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

সর্বশেষ সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ৩ দিনে অসুস্থ প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক

ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাবার খেয়ে মাত্র তিন দিনে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুরুতর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ