কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে তীব্র বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাবে ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী অভিযোগ করেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আগ্রহ দেখানো কিংবা সন্ত্রাস ছড়ানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে মনোযোগ দেওয়া।
বুধবার পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, পাকিস্তানের বর্তমান নীতি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কোনো সহায়তা করবে না। জনগণের স্বার্থে দেশটির উন্নয়ন ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে আগ্রহ দেখানো কিংবা ‘সন্ত্রাস রপ্তানি’র পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়া। তার দাবি, জাতিসংঘের পরিষদে এ ধরনের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না।
জাতিসংঘের মঞ্চে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন ভারতীয় এই কূটনীতিক। তিনি অভিযোগ করেন, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে।
জুন মাসের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে ত্যাগী বলেন, সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিক্ষোভকারীরা খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই বিক্ষোভে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক ও চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
ত্যাগীর অভিযোগ, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসার পরও পাকিস্তান জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেছে। তিনি বলেন, পরিষদের পর্যালোচনার ‘সব বস্তুনিষ্ঠ মানদণ্ড’ পূরণ করে এমন দেশের উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানকেই দেখা যায়—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারত আবারও জানায়, অঞ্চলটি ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের এলাকা খালি করার আহ্বান জানায় নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কূটনীতিক কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তের ওপারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ এবং তাদের ভারতে পাঠানোর অভিযোগ করেন তিনি।
ত্যাগীর দাবি, এসব গোষ্ঠীর হামলায় ধর্ম নির্বিশেষে কাশ্মীরিরা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে মুসলিমরাও ছিলেন। পাকিস্তান যে রাষ্ট্রকে পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত, সেই রাষ্ট্রই এখন জাতিসংঘের কাছে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে—বিষয়টিকে তিনি ‘পরিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে একই দিনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পাঠানো একটি চিঠিরও সমালোচনা করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অভিযোগ করেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক একটি সালিশি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পাকিস্তান চিঠিতে তথ্য বিকৃত করেছে।
স্থায়ী সালিসি আদালত–সংক্রান্ত পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, ভারতের দৃষ্টিতে এটি স্থায়ী সালিসি আদালতের কোনো বৈধ রায় নয়; বরং একটি ‘অবৈধভাবে গঠিত আদালতের’ সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের স্বার্থে তথ্য বিকৃত করা ও মিথ্যা প্রচার করা পাকিস্তানের অভ্যাস। ভারতের অবস্থান এ বিষয়ে স্পষ্ট এবং নয়াদিল্লি একাধিকবার তা জানিয়েছে।
ফলে একই দিনে জাতিসংঘের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ ও সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সূত্র- এনডিটিভি

