spot_img

বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ খেলবে: আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ক্যানিজিয়া

অবশ্যই পরুন

আর্জেন্টিনার ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনার গল্প এখন আর দেশের সীমানায় আটকে নেই। বিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায় বাংলাদেশের নানা প্রান্ত, মেসি-ম্যারাডোনাদের নিয়ে তৈরি হয় অন্য রকম উন্মাদনা। সেই ভালোবাসা কাছ থেকে দেখতে এবার ঢাকায় এলেন আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ক্লদিও ক্যানিজিয়া। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ এই কিংবদন্তি এবার শুনিয়েছেন আরও বড় স্বপ্নের কথা; একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকেও দেখতে চান তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ফর্টিস গ্রাউন্ডসে ‘ঢাকা ইন্টার-স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬’-এর ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা আর্জেন্টাইন সাবেক এই ফরোয়ার্ড। অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বাংলাদেশের ফুটবল, আর্জেন্টিনার প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসা এবং বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন ক্যানিজিয়া।

বাংলাদেশে এসে এ দেশের মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ ক্যানিজিয়া। আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা যে তিনি আগে থেকেই জানতেন, সেটিও জানান তিনি। তার মতে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এই সম্পর্কের শুরু।

ক্যানিজিয়া বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের এই সমর্থন আমাকে অবাক করেনি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা যখন খেলতেন, তখন থেকেই আমি বাংলাদেশের সমর্থকদের কথা জানি। টেলিভিশনে দেখেছি, আর্জেন্টিনা জিতলে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে আনন্দ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় দলগুলোর সমর্থক আছে, কিন্তু বাংলাদেশের মতো এমন আবেগ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। একটি দেশের এত মানুষ অন্য একটি দেশের দলকে এভাবে সমর্থন করছে; এটি সত্যিই অসাধারণ।”

বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী ক্যানিজিয়া। ২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বাস্তবতার পাশাপাশি স্বপ্ন দেখার কথাও বলেছেন। তার মতে, ফুটবলে উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ভালো কোচিং এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ক্যানিজিয়া বলেন, “বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া কখনোই সহজ নয়। তবে গত ১০ থেকে ২০ বছরে বিশ্বের অনেক দল যেভাবে নিজেদের উন্নত করেছে, বাংলাদেশও সেটি করতে পারে। ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই বাংলাদেশ কেন সেই স্বপ্ন দেখবে না? এ জন্য সরকারের সহযোগিতা, উন্নত কোচিং এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে।”

ক্যানিজিয়ার ঢাকায় আসার উপলক্ষ ছিল স্কুলপর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘ঢাকা ইন্টার-স্কুল চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৬’-এর ফাইনাল। জমজমাট এই ম্যাচে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৩–০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টিউটোরিয়ালকে। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ক্যানিজিয়া। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তিকে কাছ থেকে পেয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।

বাংলাদেশে এসে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ক্যানিজিয়া বলেন, “বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। আমি জানি, তোমরা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করো। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি আবারও বাংলাদেশে আসতে চাই।”

ঢাকায় এসে শুধু মাঠের অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি ক্যানিজিয়া। ফর্টিস এফসিতে গিয়ে ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। পরে মাঠে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করে তাদের উৎসাহ দেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই তারকা।

ম্যারাডোনার সতীর্থ হিসেবে ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ক্যানিজিয়ার বাংলাদেশ সফর তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আবেগের সম্পর্ককে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

বদলাচ্ছে অর্থবছরের সময়কাল, এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুনের বদলে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সময়কাল হবে ১...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ