‘ইরানী সেনাবাহিনীর অভিজাত স্থল ইউনিট ও ব্রিগেডগুলো সীমান্তে মার্কিন বাহিনীকে কোনো ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেয়নি। তারা আজও নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় মনোবল নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।’
শনিবার এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আকরামি-নিয়া।
তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রম, বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বিমান ভূপাতিত করার ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তবে সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর কার্যক্রমও আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।
আকরামি-নিয়ার মতে, স্থলবাহিনীর মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে স্থল হামলা চালানোর সুযোগ তো দেয়ইনি, এমনকি এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সাহসও অর্জন করতে দেয়নি। ইরানি সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র বিমানবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি স্থলবাহিনীর ভূমিকাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব বাহিনীর সম্মিলিত কার্যক্রম শত্রুপক্ষকে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম যুদ্ধ শুরু করে, যা ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা আগ্রাসন শুরু হয় এবং ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে তা থেমে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় যুদ্ধেই ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার কারণে আগ্রাসনকারীরা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয় যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায় এবং দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ১৭ জুন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (MoU) লঙ্ঘন করে করা হয়।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
সূত্র: পার্স নিউজ

