spot_img

নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবো না, অন্যের ক্ষতি করব না

অবশ্যই পরুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ক্ষতি করাও যাবে না, ক্ষতি সহাও যাবে না। (অন্য অর্থে ‘ক্ষতির জবাবেও ক্ষতি করা যাবে না)।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৪১; মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদিস : ৬০০)
এ হাদিসের মূল শিক্ষা হলো

১. ‘ক্ষতি করা যাবে না’ এর অর্থ হলো, কোনো অন্যায় কারণ ছাড়া নিজের বা অন্য কোনো মুসলিমের ক্ষতি করা যাবে না। অর্থাৎ, মানুষের জান, মাল, সম্মান, পরিবার, অধিকার বা অন্য কোনো বিষয়ে অন্যায়ভাবে ক্ষতি করা নিষদ্ধি।

২. ‘ক্ষতি সহাও যাবে না’ এর অর্থ নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হবো না এবং নিজের ক্ষতি নিজে ডেকে আনব না।

৩. ‘ক্ষতির জবাবে ক্ষতিও করা যাবে না’ এর অর্থ হলো, কেউ তোমার ক্ষতি করেছে বলে তুমিও তাকে ক্ষতি করবে এভাবে প্রতিশোধ নেওয়া যাবে না।
বিশেষ করে, তার প্রথম ক্ষতির জবাবে তুমি যদি সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করো, তাহলে সেটিও অন্যায়ের মধ্যে পড়তে পারে।
এই নীতির মাধ্যমে ইসলাম মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করে, ক্ষতি ও অনষ্টি দূর করে, উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয় এবং জুলুম ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করে।

বাস্তব জীবনে এই হাদিসের শিক্ষা

১. অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা : এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। ইবাদতের ক্ষেত্রেও নিজের ক্ষতি করা যাবে না ইসলাম ইবাদতে বাড়াবাড়ি, কঠোরতা ও অতিরঞ্জন পছন্দ করে না, যদি তা মানুষের নিজের ক্ষতির কারণ হয়। যেমন: প্রতিদিন সারাদিন রোজা রাখা এবং ইফতার না করা। নিয়মিত সারা রাত নামাজ পড়ে ঘুম নাানো। বিয়ের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও শুধু ইবাদতে ব্যস্ত থাকার জন্য বিয়ে পরিত্যাগ করা।
ইসলাম ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা শিক্ষা দেয়।

২. দাম্পত্য জীবনে ক্ষতি করা নিষদ্ধি : স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও এই মূলনীতি প্রযোজ্য। যেমন: স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রীর প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ বন্ধ করে দিলে সে স্ত্রীর ক্ষতি করছে। স্ত্রী অন্যায়ভাবে স্বামীর বৈবাহিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করলেও ক্ষতি সৃষ্টি হয়। দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রীকে এমন অবস্থায় রেখে দেওয়া যে সে না প্রকৃতপক্ষে স্ত্রী হিসেবে সংসার করতে পারে, না তালাকপ্রাপ্ত হয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করতে পারে এটিও ক্ষতির অন্তর্ভুক্ত।

৩. সন্তানকে কেন্দ্র করে বাবা-মা একে অপরের ক্ষতি করতে পারবে না, যেমন: কোনো তালাকপ্রাপ্ত মা যদি শুধুমাত্র বাবাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সন্তানকে দুধ পান করাতে অস্বীকার করেন, তাহলে এতে বাবা এবং সন্তানের উভয়ের ক্ষতি হতে পারে। অর্থাৎ, সন্তানকে বাবা-মায়ের পারস্পরিক প্রতিশোধের মাধ্যম বানানো যাবে না।

৪. প্রতিবেশীর ক্ষতি করা নিষিদ্ধ : সামাজিক জীবনেও এই হাদিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে ময়লা ফেলা। অতিরিক্ত শব্দ করে তার শান্তি নষ্ট করা। তার বাড়ির ব্যক্তিগত বিষয় গোপনে অনুসন্ধান করা। তার পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা। এসবই অন্যের ওপর ক্ষতি চাপানোর উদাহরণ। একজন ভালো মুসলিম শুধু নিজে ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকবে না; তার প্রতিবেশীও তার হাত ও আচরণ থেকে নিরাপদ থাকবে।

৫. প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতি : বর্তমান যুগে এই হাদিসের প্রয়োগ আরও ব্যাপক। যেমন যাচাই না করে গুজব ছড়ানো। অন্যের অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে প্রবেশ করা। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা। কারও ছবি অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা। আরো ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া। অশ্লীল ছবি বা ভিডিও প্রচার করা। মানুষের সম্মান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পোস্ট বা মন্তব্য করা। মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো।

৬. প্রতিশোধমূলক ক্ষতি থেকে বিরত থাকা : এটি হাদিসটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধরুন, কেউ তোমাকে গালি দিল। তুমি তাকে গালি দেওয়ার পরিবর্তে তার চেয়ে বেশি অপমান করলে, তাহলে তুমি সীমা অতিক্রম করতে পারো। কেউ তোমার ক্ষতি করল বলে তুমি তার আরও বড় ক্ষতি করে দিলে এটিও সঠিক প্রতিশোধ নয়। ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার ও সীমালঙ্ঘনমূলক প্রতিশোধ এক বিষয় নয়। ইসলাম ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের অনুমতি দেয়, কিন্তু প্রতিশোধের নামে সীমা অতিক্রম করতে নিষেধ করে।

প্রতিশোধের চক্র
মানুষের স্বভাব অনেক সময় এমন যে সে আমাকে যতটা কষ্ট দিয়েছে, আমি তাকে তার দ্বিগুণ কষ্ট দেব।
একজন এক ধাপ বাড়ায়, অন্যজন দুই ধাপ বাড়ায়। এরপর তৃতীয় ব্যক্তি আরও বেশি প্রতিশোধ নেয়।
ফলে ক্ষতি→ প্রতিশোধ→ আরো বড় ক্ষতি→আরও বড় প্রতিশোধ এভাবে চলতে থাকে।
ইসলাম এই চক্র ভেঙে দিতে চায়।

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ