দুর্বল মার্কিন ডলার এবং সাম্প্রতিক মন্থর অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূল্যবান এই ধাতুর দিকে, যার ফলে বিশ্ববাজারে এর কদর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৮ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৪০১.১৫ ডলারে দাঁড়ায়। এর ফলে গত সপ্তাহের দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরের রেকর্ড টিকিয়ে রেখেছে হলুদ ধাতু। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৫৬.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ডলার সূচক ০.২ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, মুদ্রাস্ফীতির দুর্বল তথ্যের কারণে মার্কিন ডলার বর্তমানে চাপে রয়েছে, যা স্বর্ণের দামকে ৪,৪০০ ডলারের ঘরে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে। তবে ৪,৫00 ডলারের ঘর স্থায়ীভাবে পার করতে হলে ডলারের পতন কিংবা জ্বালানির দামে বড় ধরনের হ্রাসের প্রয়োজন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং দুর্বল ভোক্তা মূল্যস্ফীতির ডেটা আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। সিএমই-এর ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন নেমে এসেছে মাত্র ২৯ শতাংশে, যা এক মাস আগেও ছিল ৪৭ শতাংশ। সাধারণ নিয়মে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর বাজারেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে:
রুপা: স্পট রুপার দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৫.৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্ল্যাটিনাম: ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাম হয়েছে ১,৭৫৯.৬৯ ডলার।
প্যালাডিয়াম: ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাম পৌঁছেছে ১,৩৩৪.৭৭ ডলারে।
বিশ্লেষকরা এখন মার্কিন ফেডের জুলাই মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন, যা ভবিষ্যতের মুদ্রানীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দেবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে গাজা শান্তি আলোচনা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবও বাজারের ওপর গভীরভাবে বজায় রয়েছে।

