গ্রিসে অলিম্পিয়া ফোরাম ৭-এর একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে গ্রিস-বাংলাদেশ শ্রমিক চলাচল চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী গ্রিসে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে গত দুই বছরে প্রকৃতপক্ষে ৫০০ জনেরও কম কর্মী গ্রিসে আসতে পেরেছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর প্রাচীন অলিম্পিয়ার ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়া ফোরাম ৭-এর একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা। ‘দ্য ডিপ্লোম্যাটিক পার্সপেক্টিভ : দ্য ফিউচার অব অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাকশন–লেবার মোবিলিটি, স্কিলস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল পার্টনারশিপস’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি অংশ নেন। আলোচনা সঞ্চালনা করেন অলিম্পিয়া ফোরামের সভাপতি লেফতেরিস ভারউক্সিস।
আলোচনায় রাষ্ট্রদূত সুমনা বলেন, বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে শ্রমবাজারে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা শুধু গ্রিসের নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতা। পরিবর্তিত জনসংখ্যাগত বাস্তবতায় শ্রমিকের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনতে সুশৃঙ্খল ও কার্যকর শ্রমিক চলাচল ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গ্রিস-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় শ্রমিক চলাচল চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই কাঠামোর আওতায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী গ্রিসে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু গত দুই বছরে বাস্তবে গ্রিসে আসা বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ৫০০ জনেরও কম। এর পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত বাধা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ভিসা দেওয়ার বর্তমান প্রক্রিয়াও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গ্রিসের প্রয়োজনীয় প্রবেশ ভিসা পেতে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বর্তমানে ভারতে যেতে হয়। ফলে শ্রমিকদের গ্রিসে আসার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ছে। চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং গ্রিসের শ্রমবাজারের প্রয়োজন মেটাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ ও পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় গ্রিসের শ্রমবাজারে প্রবেশকারী কর্মীদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু শ্রমিক পাঠানো বা গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কর্মীরা পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা শ্রমিক চলাচল ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, টেকসই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
আলোচনায় বলা হয়, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়, কার্যকর শ্রমিক চলাচল ব্যবস্থা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গ্রিস ও বাংলাদেশ শ্রম ও শিক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের চাহিদা আরও কার্যকরভাবে পূরণ করতে পারে।
অলিম্পিয়া ফোরাম ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করেছে পশ্চিম গ্রিস অঞ্চল, প্রাচীন অলিম্পিয়া পৌরসভা, গ্রিন ফান্ড, পিরগস পৌরসভা, কেইডিই, ইএনপিই, ইলিয়ার চেম্বার এবং পেলোপনিস বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানটি পাত্রাস বিশ্ববিদ্যালয়, আচাইয়া চেম্বার, হেলেনিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ একাধিক গ্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়।

