spot_img

স্বর্ণের দাম নিয়ে পূর্বাভাস

অবশ্যই পরুন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের রেকর্ড ভাঙার খেলা যেন থামছেই না। গত কয়েক বছর ধরে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। মাঝে কিছুটা ওঠানামা করলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। ২০২০ সালেও প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। অথচ বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

৫ বছরেই দ্বিগুণ দাম
মুদ্রাস্ফীতির কারণে যাতে টাকার মান কমে না যায়, সাধারণ মানুষ সেই চেষ্টাই করেন। সাধারণত ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়। তবে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার এখন তুলনামূলক কম। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের সম্পদের সুরক্ষার জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন। আর এ ক্ষেত্রে স্বর্ণ বা মূল্যবান ধাতুর বিকল্প নেই। চাহিদা বাড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই স্বর্ণের দাম বাড়ছে।

ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন ক্রমবর্ধমানভাবে স্বর্ণ কিনছে। চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ উদীয়মান বাজারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি আট হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান দামের প্রায় দ্বিগুণ।

যুক্ত হয়েছে নতুন ক্রেতা
স্বর্ণের বাজারে এখন নতুন এক খেলোয়াড়ের আগমন ঘটেছে। এলবিবিডব্লিউ (LBBW)-এর বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার জানান, সুদের হার কমার সম্ভাবনা, ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং কয়েন বা বারের উচ্চ চাহিদার পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন স্বর্ণের বাজারে বড় ভূমিকা রাখছে। ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সোনা কিনছেন। এর ফলে সোনার বাজারে নতুন করে গতির সঞ্চার হয়েছে।

স্বর্ণের দাম কীভাবে নির্ধারণ হয়, কেন ওঠানামা করে?
ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুসহ মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো স্থায়ী ক্রেতারা এখন বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। ফলে গহনা ক্রেতাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সোনার বাজার চাঙ্গা থাকার পেছনে এটিই ছিল মূল কারণ।

অন্যদিকে বিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক থমাস কুল্পের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তাই সোনার দাম বাড়ার প্রধান কারণ। বিশ্বজুড়ে সংকটের সময়ে সোনা সবসময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করে।

ভবিষ্যৎ কী হতে পারে?
ভবিষ্যদ্বাণী সবসময় শতভাগ মেলে না। তবে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সোনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মত রয়েছে। ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ এই মুহূর্তে বাজারে নেই। সম্প্রতি সোনা কেনার গতি কিছুটা কমেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বর্ণ কেন কিনে রাখবেন?
তবে ডয়চে ব্যাংকের মাইকেল হুসেহ তার পূর্বাভাসে অটল রয়েছেন। তার মতে, স্নায়ুযুদ্ধের মতো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আবার ফিরে আসছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের মোট রিজার্ভের প্রায় ৪০ শতাংশ স্বর্ণে রূপান্তর করতে পারে। এমনটা হলে স্বর্ণের দাম সত্যিই আউন্সপ্রতি আট হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকবে।

বিজেড ব্যাংকের থমাস কুল্প অবশ্য কিছুটা সতর্ক। তবে তিনি আশাবাদী। তার মতে, আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। কারণ বাজারে স্বর্ণের মৌলিক চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

সর্বশেষ সংবাদ

বন্যা মোকাবেলায় প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের আহ্বান

বন্যা মোকাবেলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ