ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পৌঁছানোর জন্য ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার সঙ্গে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানা ধরনের চাপ ও কৌশল প্রয়োগ করেছেন, যা তার মরিয়া অবস্থানেরই প্রতিফলন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক বার্তায় খামেনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা সহমর্মিতা ও সদিচ্ছা নিয়ে অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ও চাপের কৌশল ব্যবহার করেছেন।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দূরবর্তীভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে সব ধরনের সংঘাতের স্থায়ী অবসান, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরুদ্ধার, অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খামেনি জানান, শুরুতে তিনি এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করলেও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তির অনুমোদন দেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান হিসেবে পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণ এবং প্রতিরোধ অক্ষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অযৌক্তিক বা অতিরিক্ত দাবি ইরান মেনে নেবে না।
খামেনির ভাষায়, “এখন আমরা—অর্থাৎ গর্বিত ইরানি জাতি এবং আমি—চুক্তিতে উল্লেখিত শর্তগুলোর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকব। তবে ভবিষ্যতে যে সরাসরি আলোচনা হবে, তা কখনোই শত্রুপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেওয়ার সমার্থক নয়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ইমাম মাহদির বরকতময় দোয়া ইরানের জনগণের জন্য আরও সাফল্য ও বিজয় বয়ে আনবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, উভয় পক্ষ ৬০ দিনের আলোচনাকাল শুরু করেছে, যার লক্ষ্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো। এ লক্ষ্যে ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।
এই চুক্তির পটভূমিতে রয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসী সামরিক অভিযান।
সূত্র: প্রেম টিভি

