spot_img

গুনাহে অনুতপ্ত না হয়ে বিদ্রোহী হওয়া ধ্বংসাত্মক

অবশ্যই পরুন

আল্লাহর মনোনীত বিশেষ বান্দা নবী-রাসুলরা ছাড়া মানুষ মাত্রই গুনাহগার। তারা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে গুনাহ করে ফেলে। কিন্তু একজন ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য হলো, সে ভুল বুঝতে পারলে অনুতপ্ত হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ পাপ করার পর অনুশোচনা তো করেই না, বরং যারা তাকে সত্যের দিকে আহ্বান করে তাদেরই দোষারোপ করে, অপমান করে, এমনকি হুমকি দেয়। কোরআনের ভাষ্য মতে, এটি অহংকার, হূদয়ের কঠোরতা এবং সত্য প্রত্যাখ্যানের মতো গুরুতর আত্মীক রোগের লক্ষণ। কারণ অধিক পরিমাণ আত্মাভিমান বা আত্মমুগ্ধতার কারণে মানুষ হেদায়েত থেকে দূরে সরে যায়।

এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় কর, তখন অহঙ্কার তাকে গুনাহর দিকে আকর্ষণ করে, জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট আর তা কতই না জঘন্য আবাসস্থল!’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৬)

এই আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যাকে তার ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হলে সে তা মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আরও বেশি গোঁড়ামি ও পাপাচারে লিপ্ত হয়। অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে সে নিজের অবস্থানকে জোরদার করার চেষ্টা করে, যা বান্দার জন্য ধ্বংসাত্মক। কেননা শয়তান এরকম অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস হয়েছিল। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলিস ছাড়া সকলেই সিজদা করল, সে অমান্য করল ও অহঙ্কার করল, কাজেই সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩৪)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টো অন্যদের দোষারোপ করে, তখন সে মূলত শয়তানি চরিত্রের অনুসরণ করছে। কারণ অহংকার মানুষকে আত্মসমালোচনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা তাকে কখনোই হেদায়েতের আলো দেখতে দেয় না। বরং তার অহংকারের অন্ধকার তাকে আরো বিভ্রান্তির দিকে ধাবিত করে। সে সত্যের পক্ষে ডাকা মানুষগুলোকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। যেমনটা করেছিল ফিরাউন। মুসা (আ.) তাকে সত্যের দাওয়াত দিলে সে নিজের ভুলতো স্বীকার করেইনি; বরং মুসা (আ.)-কেই দোষারোপ করেছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। পরবর্তীতে যখন মুসা (আ.) সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে, তখনও সে সবকিছু বুঝেও ফিরে আসেনি বরং উল্টো হুমকি দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ফেরাউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। কাজেই আমি অবশ্য অবশ্যই তোমাদের হাত আর পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব আর খেজুর গাছের শাখায় তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই শূলে চড়াব আর তখন তোমরা অবশ্য অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার আজাব বেশি শক্ত আর বেশি স্থায়ী।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ৭১)

এমনি ভাবে শুআইব (আ.)-কেও তার জনপদের লোকেরা সত্য গ্রহণ না করে উল্টো জনপদ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। (সুরা আরাফ, আয়াত : ৮৮)। নুহ (আ.) তার জাতি প্রস্তরাঘাতে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল। (সুরা শুআরা, আয়াত : ১১৬)

এ থেকে বোঝা যায়, সত্যের মুখোমুখি হয়ে হুমকি দেওয়া অত্যাচারী ও পথভ্রষ্টদের পুরোনো স্বভাব। বর্তমান যুগেও কেউ এরকম করলে, বুঝে নিতে হবে, সেও তাদের অনুসরণ করছে। পাপ হয়ে যাওয়ার পর তাওবা না করে উল্টো তার ওপর অহংকার করা বা মিথ্যা ও ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে তা বৈধ করার অপচেষ্টা করা জঘন্য অপরাধ। এই প্রবণতার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। সুতরাং আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। কারণ তারা মিথ্যা বলত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০)

যখন মানুষ বারবার পাপ করে এবং অনুতপ্ত না হয়ে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তখন তার অন্তর ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যায়। একসময় সে সত্যকে সত্য হিসেবে দেখতেও অক্ষম হয়ে পড়ে। পাপের পর অনুশোচনা না করে উল্টো দোষারোপ করে, উপদেশদাতাকে অপমান করে কিংবা হুমকি দেয়। এটা কোনো সাধারণ দুর্বলতা নয়; এটি অহংকার, আত্মপ্রবঞ্চনা এবং হূদয়ের কঠিনতার ভয়াবহ লক্ষণ। একজন মুমিনের করণীয় হলো নিজের ভুল স্বীকার করা, তওবা করা এবং সত্যকে গ্রহণ করার বিনয় অর্জন করা। কারণ আল্লাহ তাআলা

তওবাকারীদের ভালোবাসেন, কিন্তু অহংকারী ও জালিমদের ভালোবাসেন না।

সর্বশেষ সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ