সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পে-কমিশনের পূর্ণ সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এই ৫০ শতাংশ পে-কমিশনের প্রস্তাবিত পূর্ণ বৃদ্ধির ভিত্তিতে নয়, বরং সমন্বিত একটি হিসাবের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৬০–৭০ শতাংশ বাড়ানো হলে তা ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে দাঁড়ায়। কিন্তু পে-কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। তাই ৬০–৭০ শতাংশ বৃদ্ধি কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতের পে-স্কেলগুলোর মতো এবারও নিচের গ্রেডে বেতন দ্বিগুণ বা তার বেশি বাড়ানো দরকার। তার মতে, সর্বনিম্ন বেতন অন্তত ২০ হাজার টাকা হওয়া উচিত।
অন্যদিকে পে-কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এটি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হতে পারে তিন ধাপে। প্রথম ধাপে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বেতন বৃদ্ধি, দ্বিতীয় ধাপে পরবর্তী বছরে সমন্বয় এবং তৃতীয় ধাপে ভাতা পুনর্গঠন করা হতে পারে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির একটি সমন্বিত প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

