রাজধানীর যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি লাঘবে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নগর ভবনে প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
২০২১ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানকে চলাচলের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সভায় ফেডারেশনের নেতারা জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে প্যাডেল চালিত রিকশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে অনেক চালকই প্যাডেল চালিত রিকশা চালাতে আগ্রহী নন। ফলে কিছু মালিক লাইসেন্সযুক্ত প্যাডেল রিকশার কাঠামোতে ব্যাটারি সংযুক্ত করেছেন।
তারা দাবি করেন, লাইসেন্সকৃত যেসব প্যাডেল রিকশায় ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোকে নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধতা দেওয়ার জন্য। এছাড়া, ঢাকা শহরের স্থায়ী রিকশা মালিক ও চালক ব্যতীত মৌসুমি রিকশা চালক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়।
সভায় প্রশাসক বলেন, রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নাগরিকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে। নীতিমালায় জনভোগান্তি ও জীবিকা নির্বাহ দুটি বিষয়কেই ভারসাম্য করা হবে।
তিনি জানান, নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইন, গতি ও নিরাপত্তা বিশিষ্ট নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা রাস্তায় চলবে, যাতে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। এ সময় তিনি ঢাকা শহরের বাইরে থেকে যারা অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের প্রকৃত রিকশা চালক ও মালিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

