spot_img

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা করল ইরাক

অবশ্যই পরুন

ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের মিশন সমাপ্ত ঘোষণা করেছে বাগদাদ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল ইরাক।

তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়, কাসিম আল-আরাজি এই পদক্ষেপকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২১ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আলোচনা ও সমঝোতার ধারাবাহিকতায় এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইরাকে থাকা নিজেদের বাকি অবস্থানগুলো থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
আল-আরাজি বলেন, ‘নতুন পর্যায়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, যার লক্ষ্য ইরাকের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করা।’ আইএসআইএস (দায়েশ) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিজয়ের জন্য তিনি ইরাকিদের আত্মত্যাগ এবং বিভিন্ন শাখা ও ইউনিটের সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জোট এবং বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জোটের মিশন শেষ হওয়ার অর্থ অংশীদারত্বের সমাপ্তি নয়। বরং এখন জোটের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকে যাওয়া হবে। পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রমও চলতে থাকবে।’এদিকে বুধবার মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোটের অংশীদাররা ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে। এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের বাহিনী ও সরঞ্জামের সুশৃঙ্খল প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে এই সামরিক মিশনের সমাপ্তি ঘটেছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, ‘এই মাইলফলক যুদ্ধকালীন জোটের মিশন থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উত্তরণের সূচনা করেছে। এতে আরও স্বাভাবিক দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্কের মাধ্যমে ইরাককে সহযোগিতা করা হবে। ১২ বছরের এই অভিযানে ইরাক ও পুরো অঞ্চলে আইএসআইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে।’

পার্নেল বলেন, ‘ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইএসআইএসের অবশিষ্ট সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চলমান কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবে। তবে ইরাকি অংশীদারদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর। আইএসআইএসের অবশিষ্ট সদস্য এবং ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ ইরাকের বাকি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রধান দায়িত্ব এখন ইরাক সরকারের।’

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাগদাদ ও ওয়াশিংটন ইরাকে জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে একমত হয়। এ জন্য ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর ইরাক ও জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ছিল।

২০১৪ সালে আইএসআইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গঠন করা হয়। আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় জোট ইরাকি বাহিনীকে বিমান সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রশিক্ষণ দেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইরাক ঘোষণা করে, আইএসআইএসের দখলে যাওয়া সব এলাকার ওপর তারা আবারও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ-তুরস্ক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান পর্যটন মন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তুরস্কের প্রতি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ