সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করছে বাংলাদেশ ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি (এএসইউ)।
এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ফোর সিজনস হোটেল সিলিকন ভ্যালি’-তে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে বাংলাদেশে একটি কার্যকর সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিভিন্ন সম্ভাব্য দিক নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকৌশল শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষ কর্মীবাহিনী উন্নয়ন, শিল্প খাত এবং বিনিয়োগকে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স খাতকে কেন্দ্র করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণার সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
অন্যদিকে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির পক্ষে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক মেগান গিবসন, ইউনিভার্সিটি ডিজাইন ইনস্টিটিউটের ভাইস চেয়ার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মিনু আইপে এবং অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর ও ইন্ডাস্ট্রি অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য ড. ইব্রাহিম খলিল। ড. মিনু আইপে বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
সেমিকন্ডাক্টর খাতের শিক্ষা ও কর্মীবাহিনী উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ উদ্যোগসহ অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অভিজ্ঞতার বিষয়টিও বৈঠকে বিবেচনায় আসে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই অভিজ্ঞতা কীভাবে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, প্রায়োগিক গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার কার্যক্রমকে শিল্পের প্রয়োজন এবং বিনিয়োগের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি এসব ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগগুলোকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ STEM শিক্ষার প্রসার, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদীয়মান শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী তরুণদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলার বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্প, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের সঙ্গে সংযুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি একটি বাস্তবসম্মত সেমিকন্ডাক্টর রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যাতে শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগের বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর টেকসই পরিকল্পনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরির ওপর জোর দেন। প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়ার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।
বৈঠকে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে একটি সুবিন্যস্ত সহযোগিতা কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা করেছে।

