ডারউইনে ইতিহাস গড়ার পর মেকাইয়ে যেন পুরোপুরি ভিন্ন এক বাংলাদেশ। দুই ইনিংসেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় একশ রানের আগেই গুটিয়ে গেল দল, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারল ইনিংস ও ৫১ রানে। এমন হারের পর টস কিংবা কন্ডিশনকে সামনে এনে দায় এড়ানোর পথ বেছে নেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই সামনে রেখে স্বীকার করেছেন হতাশার কথা।
ডারউইনে পাওয়া দুর্দান্ত জয়ের রেশ কাটার আগেই মেকাইয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের সামনে দুই ইনিংসেই ব্যাটিং লাইনআপ ছিল অসহায়। কোনো ইনিংসেই দল পেরোতে পারেনি তিন অঙ্কের ঘর। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজের এই ম্যাচ শেষ করেছে সফরকারীরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কথায় ছিল হতাশা, তবে ছিল না ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা। তিনি মনে করেন, টস ম্যাচের পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল এবং শুরুতে ব্যাটিং করা ছিল কঠিন। তবে সেটিকে নিজেদের ব্যর্থতার ব্যাখ্যা হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি তিনি।
শান্ত বলেন, ব্যাটিংয়ের পারফরম্যান্স অবশ্যই হতাশাজনক। প্রথম ইনিংসে পরিস্থিতি কঠিন ছিল, এমনকি তিন ইনিংসেই ব্যাটিং সহজ ছিল না। কিন্তু এসবকে অজুহাত হিসেবে দেখাতে চান না তিনি। তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বোলাররাও নিজেদের কাজটা দারুণভাবে করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিংয়ের প্রশংসার পাশাপাশি সামনে নিজেদের টেকনিক্যাল জায়গাগুলোতে আরও কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার উপলব্ধি, এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টিকে থাকতে হলে ব্যাটিংয়ের খুঁটিনাটি আরও ভালো করতে হবে।
ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের আবেগ মেকাইয়ের ম্যাচে প্রভাব ফেলেছিল কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও উঠেছিল। তবে সেটিকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে মানতে চাননি শান্ত। তার মতে, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এক ম্যাচের আবেগ পেছনে ফেলে পরের ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি।

