spot_img

দ্বিন ও দুনিয়া সব কাজে সফলতার তিন সূত্র

অবশ্যই পরুন

এখানে এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে, যা দ্বিন ও দুনিয়ার সফলতার সূত্র।

১. দোয়া : দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে হবে, যেন তিনি কাজটি সহজ করে দেন এবং সফলতা দান করেন। কারণ দোয়া হলো ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম এবং সেই মহান রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা, যার হাতেই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৯)

একজন বান্দার উচিত দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজন আল্লাহর কাছেই চাওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার সকল প্রয়োজনই তার রবের কাছে চায়; এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও সেটিও যেন আল্লাহর কাছেই চায়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০৪)

২. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা : দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এবং তাঁরই সাহায্য কামনা করতে হবে, যেন তিনি কাজকে সহজ করে দেন এবং সফলতা দান করেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-তালাক, আয়াত : ৩)
অর্থাত্, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট সাহায্যকারী ও অভিভাবক।

তাওয়াক্কুলের অন্যতম সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমিন (রহ.) তিনি বলেন, ‘তাওয়াক্কুল হলো, উপকার লাভ ও ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য আল্লাহর ওপর আন্তরিকভাবে নির্ভর করা, পাশাপাশি আল্লাহ যে উপায়-উপকরণ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে অবলম্বন করা।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, ১/১০৬)

সুতরাং, একজন মুমিন ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে এবং তার হূদয় আল্লাহর সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত রাখে। কারণ সে বিশ্বাস করে, সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছায়, তাঁর ফয়সালায় এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণেই সংঘটিত হয়।

৩. উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা : সফলতা অর্জনের জন্য কল্যাণকর উপায় গ্রহণ করা এবং অকল্যাণ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। এটি কখনো তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়। বরং সর্বশ্রেষ্ঠ তাওয়াক্কুলকারী ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি যেমন আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করতেন, তেমনি শরিয়তসম্মত ও বাস্তবসম্মত সব উপায়ও অবলম্বন করতেন। তিনি বিভিন্ন যিকিরের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতেন। ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করতেন। যুদ্ধে বর্ম পরিধান করতেন। খন্দকের যুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য খন্দক খনন করেছিলেন। এভাবে তিনি সকল বৈধ উপায় গ্রহণ করতেন। তিনি আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। এমনকি দুর্বল উপায় হলেও তা গ্রহণ করা উচিত। উপায় গ্রহণের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি তখন ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল, সদ্য সন্তান প্রসবকারী এক নারী। অথচ আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন একটি বিশাল খেজুর গাছের কাণ্ড ঝাঁকাতে, যা শক্তিশালী পুরুষদের পক্ষেও সহজ ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তুমি খেজুর গাছের কাণ্ডটি তোমার দিকে নাড়াও; তাহলে তোমার ওপর ঝরে পড়বে তাজা ও পাকা খেজুর।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ২৫)

আল্লামা আশ-শানকিতি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা চাইলে গাছ না ঝাঁকিয়েই মারইয়ামের ওপর খেজুর ঝরিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাঁকে গাছের কাণ্ড নাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মানুষ শিক্ষা লাভ করে যে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণ করাও অপরিহার্য।’

অতএব, একজন মুসলিমের জন্য দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে এই তিনটি নীতি সর্বদা অনুসরণ করা উচিত—
১. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
২. পূর্ণ বিশ্বাস ও নির্ভরতাসহ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা।
৩. শরিয়তসম্মত ও বৈধ সব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা।

যখন এই তিনটি বিষয় একত্রিত হয়, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় কাজ সহজ হয়, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের পথ সুগম হয়।

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলো ইরান

ইরান জাতিসংঘকে সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বিমান হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘আসন্ন গুরুতর হুমকি’...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ