ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যের সংগীত নিয়ে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কে জড়ালেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। নির্বাচনের আগে বিজয় জিতবেন বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা জ্যোতিষী রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ওই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমন নিয়োগে খোদ মিত্র দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন মহলে বিস্ময় ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
রাধান পণ্ডিত একই সঙ্গে জ্যোতিষী এবং বিজয়ের দল টিভিকের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে দেখা গেছে তাকে। গত ৪ মে ভোট গণনার সময় যখন টিভিকে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখন বিজয়কে অভিনন্দন জানাতে তার বাসভবনে সবার আগে পৌঁছেছিলেন রাধান পণ্ডিত।
ব্যক্তিগত এই সম্পর্কের বিষয়টি বিজয়ের রাজনৈতিক মিত্র এবং বিরোধী দল ডিএমকে ভালোভাবে নেয়নি। কারণ দ্রাবিড় রাজনীতির ধারায় তারা সাধারণত যেকোনও ধরনের কুসংস্কার বা জ্যোতিষচর্চার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশীকান্ত সেন্থিল লিখেছেন, আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। একজন জ্যোতিষীর কেন মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ কর্মকর্তার পদের প্রয়োজন হবে? কেউ কি এর কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেন?
যদিও দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে জ্যোতিষী এবং রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। ভেট্রিভেলের মক্কেলদের তালিকায় তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতার নামও ছিল। শোনা যায়, জয়ললিতার শাসনামলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো এই জ্যোতিষীর সঙ্গে পরামর্শ করে।
তবে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জয়ললিতার কারাদণ্ড হবে না বলে করা ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হওয়ার পর তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল।
গত মাসে অনুষ্ঠিত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেস, বাম দল (সিপিআই ও সিপিএম) এবং ভিসিকের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয় তাকে। সেই জোটে থেকে এমন এক নিয়োগে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছেন মিত্ররা।
সূত্র: এনডিটিভি।

