spot_img

চেহারা বিকৃতি ইসলামে নিষিদ্ধ

অবশ্যই পরুন

মানবজাতির সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান। তার কাজ হলো আদম সন্তানকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে রাখা। অলসতা ও উদাসীনতা ও পাপাচারের সাগরে ডুবিয়ে রাখা।

সে মানুষের মনে সর্বদা পাপের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। পাপকে এমন আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে যে, মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন্ড, বিলাসিতা ও স্মার্টনেসের নামে মানুষের মধ্যে উদ্ভট ইচ্ছা জাগায়, যারা তার ফাঁদে পা দেয়, তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

কারণ শয়তানের এই ফাঁদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ আগেই তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অভিসম্পাত করেছেন এবং সে (শয়তান) বলেছে, আমি তোমার দাসদের এক নির্দষ্টি অংশকে (নিজের দলে) গ্রহণ করবই। এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করবই; তাদের হূদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করবই, আমি তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা পশুর কর্ণচ্ছেদ করবেই এবং তাদেরকে নিশ্চয় নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করবেই। আর যে আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, নিশ্চয় সে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১৮-১১৯)

উপরোক্ত আয়াতে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে মানুষের যে কয়টি কাজে লপ্তি হওয়ার কথা উলে্লখ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো, আল্লাহর সৃষ্টি বিকৃত করা। বিভিন্ন কৃত্রিম উপায়ে চেহারা বা শরীরের সৃষ্টিগত সুন্দর রূপকে পরিবর্তন করে ফেলা। যা মূলত বিভিন্ন পৈত্তলিকরা শয়তানের পুজা করতে গিয়ে করতো। বর্তমান যুগে এই পৈত্যলিকতাকে এমন রূপ দেওয়া হয়েছে যে, অনেকে ফ্যাশনের উদ্দেশ্যে বা শখের বসে করে।

অনেকের মনে হতে পারে, মানুষ তার শরীরের মালিক, তার শরীর সে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে বিকৃত করতে পারে, সাজাতে পারে, এটা একান্তই তার অধিকার। কিন্তু ইসলাম বলছে, মানুষ চাইলে তার শরীরে বিকৃতি ঘটাতে পারে না। এটা শয়তানের কাজ। এর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে কঠিন শাসি্তর সম্মুখিন হতে হবে। তাদের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অভিসম্পাত রয়েছে।

আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন ওই সমস্ত নারীর প্রতি যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকণ করে, নিজ শরীরে উল্কি অংকণ করায়, যারা সেৌন্দর্যের জন্য ভ্রু-চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে। সে সব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি আনয়ন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৮৮৬)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যে নারী উল্কি আঁকে, দাতেঁ ফাঁক সৃষ্টি করে এবং যে মুখের চুল তুলে ফেলে, আর এভাবে আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে, তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৫২৫৩)

হ্যাঁ, যদি বিলাসিতার উদ্দেশ্যে না হয়ে কারো শারীরিক অসুস্থতা ও দুর্বলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সুচিকিতসা থাকে, তা গ্রহণে ইসলামের আপত্তি নেই। তবে ইসলামী বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে, ফ্যাশনের নামে পৈত্যলিকতার অনুসরণ ইসলাম সমর্থন করে না। মহান আল্লাহ সবাইকে সুবুদ্ধি দান করুন।

সর্বশেষ সংবাদ

মমতার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নানা সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ