চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য ও সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৩ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলসহ জামিনের আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে আসামিপক্ষ দাবি করে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং এরই মধ্যে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী বলেন, পূর্ববর্তী রিমান্ডে কী তথ্য পাওয়া গেছে তা স্পষ্ট করা হয়নি এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাকে জোরপূর্বক আদালতে আনা হয়েছে। এ অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রিমান্ড না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় একটি বাসা থেকে ডিবির বিশেষ অভিযানে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মানবপাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় পল্টন মডেল থানায় তাকে তিন দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে মিরপুরে দেলোয়ার হত্যা মামলায় ৭ এপ্রিল চার দিনের এবং ১১ এপ্রিল আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় ২২ দিনের রিমান্ডে ছিলেন তিনি।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফলপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। এ সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়েছে, আফজাল নাছেরের পরোক্ষ নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন (৪০)। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

