spot_img

হঠাৎ গরম বাড়তেই ত্বকের কালো দাগ দেখা দিচ্ছে?

অবশ্যই পরুন

কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তীব্র রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির কারণে অনেকেই ত্বকের নানা সমস্যায় ভুগছেন। কারও ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে, আবার কারও মুখে পুরোনো কালো দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হ্যাপেরপিগমেন্টেশন আছে, তাদের ক্ষেত্রে গরমের সময় এই সমস্যা আরও বেশি বাড়তে দেখা যায়।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে সূর্যের তীব্র রশ্মি ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। আর এই অতিরিক্ত মেলানিনের কারণেই ত্বকে কালচে দাগ বা অসমান রং দেখা যায়। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চাঁদনী জৈন গুপ্তা জানান, হাইপারপিগমেন্টেশন মূলত ত্বকে অতিরিক্ত মেলানিন জমে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়। গরমের সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন, আগে থেকে থাকা দাগগুলো আরও গাঢ় হয়ে যায়।

গরমে কেন হাইপারপিগমেন্টেশন বাড়ে

গরমের সময় সূর্যের ইউভি রশ্মি অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। এই রশ্মি ত্বককে রক্ষা করার জন্য মেলানিন উৎপাদন বাড়ায়। ফলে মুখ, গলা কিংবা হাতের ত্বকে কালো দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মেঘলা দিনেও বা জানালার পাশে বসে থাকলেও এই রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে।

২. ত্বকের জ্বালা ও প্রদাহ

গরমে অতিরিক্ত ঘাম, রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে ত্বকে প্রদাহ হতে পারে। যাদের ব্রণপ্রবণ বা সংবেদনশীল ত্বক, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে গাঢ় দাগ থেকে যায়, যাকে বলা হয় পোস্ট-ইনফ্লামমাত্রই হ্যাপেরপিগমেন্টেশন।

৩. হরমোনের প্রভাব

গর্ভাবস্থা বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ার কারণে অনেকের ত্বকে মেছতা দেখা যায়। গরমে সূর্যের তাপের সঙ্গে হরমোনের প্রভাব মিলিয়ে এই দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

যেভাবে হাইপারপিগমেন্টেশন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

গরমে ত্বক রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। বাইরে না গেলেও প্রতিদিন অন্তত এসপিএফ ৩০-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। বাইরে থাকলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর আবার লাগানো ভালো।

ত্বক উজ্জ্বল রাখে এমন উপাদান ব্যবহার

ত্বকের কালো দাগ কমাতে কিছু উপাদান বেশ কার্যকর। যেমন, কোজিকে অ্যাসি্‌ ভিটামিন সি এবং আরবুটিন। এই উপাদানযুক্ত ক্রিম বা সিরাম ধীরে ধীরে দাগ হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড বা শক্তিশালী ব্লিচিং ক্রিম ব্যবহার করা ঠিক নয়।

প্রয়োজনে চিকিৎসা

দাগ যদি খুব বেশি জেদি হয়, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শে কেমিক্যাল পিল বা লেজার চিকিৎসা করা যেতে পারে। তবে সাধারণত রোদ কম থাকলে এসব চিকিৎসা করানো বেশি নিরাপদ।

ত্বকের যত্নে কোমল হোন

খুব বেশি স্ক্রাব করা বা ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করলে উল্টো দাগ আরও বাড়তে পারে। তাই মৃদু ফেসওয়াশ ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে সহজ একটি স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলাই ভালো।

সব ধরনের ত্বকের সমস্যা এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে হরমোন, কারও ক্ষেত্রে ব্রণ বা সূর্যের আলো কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই দাগ বাড়তে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়াই সবচেয়ে ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, সহজ স্কিনকেয়ার রুটিন এবং সচেতনতাএই তিনটি বিষয় মেনে চললে গরমেও ত্বকের কালো দাগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সর্বশেষ সংবাদ

হারাম উপার্জন জীবনকে সংকীর্ণ করে

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য হালাল উপার্জন ও হালাল ভক্ষণ ফরজ করেছেণ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, আহার...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ