গর্ভনিরোধক বড়ি হলো এমন বড়ি যা প্রতিদিন গ্রহণ করা হয় গর্ভধারণ প্রতিরোধ করার জন্য। এর দুটি প্রধান ধরণ রয়েছে: সম্মিলিত মৌখিক গর্ভনিরোধক বড়ি (COCs) যাতে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন থাকে এবং প্রোজেস্টিন-শুধু বড়ি (POPs), যাকে ‘মিনি-পিল’ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এতে এতে রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি।
কার্যকারিতার জন্য বড়িটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করতে হয়। মিনি-পিল ক্ষেত্রে সময় মেনে কঠোরভাবে প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কয়েক ঘণ্টার বেশি দেরি হলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এই বড়ি মূলত ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গমন (ওভ্যুলেশন) বন্ধ করে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। মিনি-পিল প্রধানত জরায়ুমুখের শ্লেষ্মা ঘন করে শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে এটি কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটনও বাধাগ্রস্ত করে।
স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি
গর্ভনিরোধক বড়ি আংশিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ালে প্রসবের ৬ সপ্তাহ পর থেকে এবং সম্পূর্ণভাবে বুকের দুধ খাওয়ালে ৬ মাস পর থেকে এই পিল শুরু করা উচিত।
মৌখিক গর্ভনিরোধক পিলের সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকির একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে। যারা এই পিল ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে সার্ভিকাল (গর্ভাশয়ের মুখ) ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নারীর ঝুঁকি বাড়ে না, তবে যাদের বিআরসিএ-১ বা বিআরসিএ-২ জিনগত মিউটেশন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
বিআরসিএ-১ এবং বিআরসিএ হলো মানব জিন, যেগুলো টিউমার সাপ্রেসর প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করে এবং কোষের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই জিনগুলোর বংশগত মিউটেশন স্তন ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার এবং অন্যান্য ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে, কিন্তু মিউটেশন ঘটলে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
সার্বিকভাবে, গর্ভনিরোধক পিল কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমালেও অন্য কিছু ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বাস্থ্য ইতিহাস বিবেচনা করে উপযুক্ত পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে খুবই বিরল হলেও রক্ত জমাট বাঁধা, স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে মিনি-পিলে ইস্ট্রোজেন না থাকায় এই ধরনের ঝুঁকি সাধারণত থাকে না, তাই যেসব নারী ইস্ট্রোজেন-যুক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কিছু নারী এই বড়ি ব্যবহারের সময় মাসিকের পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন (কম রক্তপাত, অনিয়মিত রক্তপাত বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া), মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব, মেজাজের পরিবর্তন বা স্তনে ব্যথা। ব্রণ কখনও বাড়তে বা কমতে পারে, তবে সাধারণত কমে যায়। মিনি-পিল ব্যবহারকারীদের অনিয়মিত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী রক্তপাত বা মাসিক না হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং সময়ের সাথে অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।
মৌখিক গর্ভনিরোধক বড়ি বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করে না, নারীর যৌন আচরণ পরিবর্তন করে না এবং জন্মগত ত্রুটি ঘটায় না। এটি গ্রহণের জন্য ‘বিরতি’ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই বড়ি দীর্ঘদিন, এমনকি কিশোরীরাও নিরাপদে ব্যবহার করতে পারে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

