মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এর ফলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পথ আরও সহজ হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়। ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে যৌথ প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সামরিক হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষার আওতায় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। গত মাসে তুরস্কের ক্ষমতাসীন দলের এক আইনপ্রণেতা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে সরাসরি সামরিক বাহিনী পাঠানোর অনুমতি দিতে পার্লামেন্টে বিশেষ সামরিক প্রস্তাব বা ম্যান্ডেট পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সূত্র: আরব নিউজ

