spot_img

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চীনা হিউম্যানয়েড রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের

অবশ্যই পরুন

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিদেশি তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর), যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এর আওতায় হিউম্যানয়েড ও চার পায়ের রোবটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ব্যাটারির সংযোগ স্থাপনে ব্যবহৃত নতুন পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে রোবটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে চীন। এ খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোবট ও প্রযুক্তিপণ্য চীনে তৈরি হওয়ায় নতুন এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দেশটির প্রযুক্তি খাতে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের এআই সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষকরে, তথ্য চুরি, সাইবার হামলা এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে, রোবট ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এফসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, বিদেশে তৈরি এসব প্রযুক্তিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিশন নিজেদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পণ্যগুলোকে এফসিসির ‘কাভার্ড লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবার তালিকা এটি।

তবে নিষেধাজ্ঞাটি কেবল নতুন বিদেশি তৈরি উন্নত রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর আগে, এফসিসির অনুমোদন পাওয়া মডেলগুলোর বিক্রি কিংবা আমদানিতে কোনো বাধা থাকছে না।

এফসিসির আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি পাওয়ার ইনভার্টার ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকেই সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে এসব যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং নজরদারির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এমনকি বিদেশি সরকারের পক্ষ থেকেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।

বিদেশে তৈরি রোবটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের মতে, এসব রোবটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর নজরদারি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা দূর থেকে রোবটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। বেইজিংয়ের দাবি, ভিত্তিহীন অজুহাতে বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনীতিকরণ এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে চীন।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়, এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে, এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ও কল্যাণকর উন্নয়নে সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আধিপত্যবাদী মানসিকতা পরিহার করা এবং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করা।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে চীনের রপ্তানি খাত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কার্যত প্রবেশের সুযোগ সীমিত হয়েছে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের।

অন্যদিকে, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ বিক্রিও সীমিত করেছে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য চীনের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগামী অবস্থান ধরে রাখা।

এছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, মার্কিন মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

তবে এসব অভিযোগের জবাবে বেইজিং বলেছে, এআই প্রযুক্তিতে চীনের অগ্রগতি দেশটির নিজস্ব প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল।

চীনের ওপর নতুন প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর বিরল খনিজ রফতানিতে চীনের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। ইলেকট্রনিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে এসব খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে নতুন করে একই ধরনের সংকটে পড়তে চায় না ওয়াশিংটন। হিউম্যানয়েড রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞাকে সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে, কারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে দ্রুত এগিয়েছে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এসব রোবট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতেও সক্রিয় তারা।

এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেসলা ও বোস্টন ডায়নামিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে চীনা কোম্পানিগুলো। ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় আরও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

প্রথম মেয়াদে চীনের প্রযুক্তিগত উত্থান ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষকরে, চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব চুরি এবং হুয়াওয়ের মতো টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নজরদারির অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন তিনি।

তবে দ্বিতীয় মেয়াদে চীনের বিরল খনিজ রফতানি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপের মুখে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। নতুন রোবট আমদানি নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এল।

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিলো সৌদি আরব

সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ