spot_img

তেহরানে কাতারের প্রতিনিধিদল

অবশ্যই পরুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রচেষ্টার মধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রতিনিধিদলটি ইরানের রাজধানীতে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার বরাতে এএফপি জানায়, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে।

মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেছেন। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে।

কাতারের এ সফরের এক দিন আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠিতে শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ভ্যান্স। রোববার চিঠিটি মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরান সফর করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন।

এর জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে তেহরান।

এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির তেল রপ্তানি ও বাণিজ্য পরিচালনার সক্ষমতা আরও সীমিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সর্বশেষ সংবাদ

রাশিয়াকে নিয়ে কড়া বক্তব্য না দিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে পরামর্শ পেন্টাগনের

রাশিয়ার সামরিক হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশকে পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ