হোয়াটসঅ্যাপে অপরিচিত নম্বর থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা কেটে নেওয়ার বার্তা পাঠিয়ে গ্রাহককে ‘No’ লিখে উত্তর দিতে বলা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, এই একটি শব্দের উত্তর পাঠালেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যেতে পারে। তবে শুধু ‘No’ লিখে উত্তর দিলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও, আতঙ্কিত হওয়ার আগে কথিত প্রতারণার কৌশল এবং দাবিটির সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কারণ, সাধারণ টেক্সট মেসেজের উত্তর দেওয়া আর ফোন হ্যাক করে ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।
বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে অপরিচিত বা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো বার্তায় ৫ হাজার বা ৭ হাজার টাকার লেনদেনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
বার্তায় আরও বলা হয়, লেনদেনটি গ্রাহক নিজে না করে থাকলে ‘No’ লিখে উত্তর দিতে হবে। নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়ার খবর পেলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে পারেন যে কেউ। আর সেই উদ্বেগকে কাজে লাগিয়েই প্রতারকেরা গ্রাহককে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করতে পারে।
‘No’ লিখলেই কি টাকা চুরি সম্ভব?
হোয়াটসঅ্যাপে শুধু ‘No’ লিখে উত্তর দিলেই ফোন হ্যাক হয়ে যায় বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যায়—এমন কোনো সাধারণ প্রযুক্তিগত নিয়ম প্রতিষ্ঠিত নয়। আলোচ্য দাবির ক্ষেত্রেও টাকা চুরির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত বিবরণ তুলে ধরা হয়নি।
প্রচলিত সাইবার প্রতারণায় সাধারণত ভুয়া লিংকে ক্লিক করানো, ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহ, ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড বা পিন হাতিয়ে নেওয়া কিংবা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করানোর মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়। এসবের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, আলোচ্য দাবিতে বলা হচ্ছে, প্রতারকেরা কোনো ওটিপি চাইবে না কিংবা লিংকে ক্লিক করতেও বলবে না। শুধু ‘No’ লিখে উত্তর দেওয়ার পরই টাকা উধাও হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ‘অটো-এক্সিকিউশন ফাইল অ্যাটাক’ নামে একটি কৌশলের কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ ছাড়া এই ব্যাখ্যাকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
অপরিচিত নম্বর থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা কেটে নেওয়ার বার্তা এলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে প্রকৃত লেনদেনের তথ্য যাচাই করুন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
*হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার ওপর নির্ভর না করে ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লেনদেনের বিবরণ দেখুন।
*প্রয়োজনে ব্যাংকের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করুন।
*বার্তায় কোনো লিংক থাকলে তাতে ক্লিক করবেন না।
*অপরিচিত উৎস থেকে পাঠানো ফাইল ডাউনলোড বা অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।
*ওটিপি, এটিএম পিন, ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড কিংবা কার্ডের নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
*নম্বরটি হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট ও ব্লক করুন।
*অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গেলে করণীয়
অ্যাকাউন্টে অপরিচিত বা সন্দেহজনক লেনদেন দেখতে পেলে দ্রুত ব্যাংকের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানান। প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ড বা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা নিন।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বার্তা, ফোন নম্বর, লেনদেনের সময় ও পরিমাণের তথ্য সংরক্ষণ করুন। এতে ব্যাংকে অভিযোগ জানানো এবং পরবর্তী তদন্তে সহায়তা হতে পারে।
বাংলাদেশে এ ধরনের আর্থিক প্রতারণার শিকার হলে ব্যাংকের পাশাপাশি পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ ইউনিটেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিন।
সূত্র: মিনট

