ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে একপর্যায়ে ১৫৪ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। জয় যখন ইংল্যান্ডের নাগালে, তখনই শুরু ব্যাট হাতে অলরাউন্ডার শাদাব খানের অবিশ্বাস্য লড়াই। হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়েই তুলে ফেললেন জয়ের প্রয়োজনীয় রান। যেখানে রউফের অবদান মাত্র ৭ রানের। একাই ৮১ রান করেন শাদাব, বাকি ১ রান আসে অতিরিক্ত থেকে।
দুর্দান্ত এই ইনিংস খেলার পথে নিজের সেঞ্চুরিও তুলে নেন শাদাব। শেষ পর্যন্ত ৯৬ বলে ১৩টি চার ও ৫ ছক্কায় ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি।
এই জয়ে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডকে নিয়ে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল পাকিস্তান। এর আগেও ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে দলটি। এর মাধ্যমে সিরিজটির ফাইনালও নিশ্চিত করল পাকিস্তান।
রোববার (২৫ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ১৭ বল হাতে রেখেই ২৪৩ রান তুলে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেন ডাকেট। ১১১ বলের ইনিংসটি সাজাতে তিনি হাঁকান ১০টি চার ও ২টি ছক্কা। এ ছাড়া স্যাম কারান ৫২ বলে ৪২ এবং গাস অ্যাটকিনসন ২৮ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেন। তবে অন্য ব্যাটারদের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি ইংলিশরা।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৮.৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। আরাফাত মিনহাস ২৬ রানে ২টি এবং রাজাউল্লাহ ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন। হারিস রউফ ওভারপ্রতি বেশি রান দিলেও একটি উইকেট তুলে নেন।
২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। ফখর জামান, সাইম আইয়ুব ও বাবর আজম দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। ৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সাদ বাইগ ২২ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে তার বিদায়ের পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
সালমান আগা ২৬ ও হাসান নওয়াজ ১৫ রান করলেও দলকে বড় কোনো জুটি উপহার দিতে পারেননি। আরাফাত মিনহাস ১ রানে আউট হওয়ার পর পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রানে ৬ উইকেট। পরে সালমান আগা ও শাদাব খান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ১২২ রানে সপ্তম উইকেট হারায় দলটি।
এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪, রাজাউল্লাহ ৮ রানে ফিরলে ১৫৪ রানেই নবম উইকেট হারায় পাকিস্তান। তখনও জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান। হাতে মাত্র একটি উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের জয়কে প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু শাদাবের দৃঢ়তা আর হারিস রউফের সঙ্গেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র।

