ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ অমান্য করে তা অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে, এ ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি। এ ধরনের জাহাজে হামলার পেছনে করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।
তার ভাষায়, এভাবে জাহাজে হামলা চালাতে করদাতাদের অর্থ থেকে কেন শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর মারফি বলেন, ইরানকে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান মেনে নিতে বাধ্য করার মতো প্রভাব তৈরি করাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
তার অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত, এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে, যাতে ইরানকে বিপুল অর্থ দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বক্তব্যে মারফি বলেন, ‘কী ভয়াবহ বিপর্যয়!’
এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজকে অচল করে দেওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, জাহাজটির নাবিকেরা বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করেন।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী ‘এম/ভি ওশান মোলিকা’ নামের জাহাজটির পেছনের অংশে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র দিয়ে আঘাত হানে একটি মার্কিন সামরিক যুদ্ধবিমান। এতে জাহাজটির চালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। তবে হামলায় জাহাজের নাবিকদের কেউ আহত হননি বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ করেন মারফি। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাঁকে ওই ঘাঁটিতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
মারফির অভিযোগ, ইরান যুদ্ধের প্রভাব আড়াল করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কোনো পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) চালানো এ হামলায় জাহাজটির চালনা ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। তবে এতে জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, পানামার পতাকাবাহী ‘এম/ভি ওশান মোলিকা’ নামের জাহাজটিতে হামলা চালায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। জাহাজটি ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত।
সেন্টকমের দাবি, জাহাজটির নাবিকেরা বারবার সতর্ক করার পরও তা উপেক্ষা করেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন নৌ অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা চালান।
সেন্টকমের বিবৃতি অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি জাহাজের পেছনের অংশে আঘাত হানে। এতে জাহাজটির চালনা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ইরানের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পর আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় জাহাজটিকে বাধা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইরানের বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন গত ১৪ জুলাই এ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে। এর দুই দিন আগে, ৮ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরুর পর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি আবার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল তেহরান।
সেন্টকমের দাবি, গত তিন মাসে, অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি ট্যাংকারও ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

