কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আমদানিনির্ভরতা থেকে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। যেসব কৃষিপণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, সেগুলোর দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে আমদানিনির্ভরতা কমানো হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন কৃষি উৎপাদন এলাকা এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ প্রকল্প পরিদর্শনকালে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি আন্তরিক। এ অঞ্চলে আম উৎপাদনের পাশাপাশি ধান ও সবজি চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষির সম্ভাবনা আরও বাড়াতে আমবাগানের গাছের মধ্যবর্তী অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। আমবাগানের ফাঁকা জায়গায় আদা চাষ বাড়ানো গেলে একদিকে আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য জমির মাটির উপযোগিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহারের উদ্যোগ বাড়ানোর কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি বড় প্রকল্প ইতিমধ্যে তাঁর কাছে এসেছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর মতে, আমের সংরক্ষণকাল বাড়ানো গেলে মৌসুমে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আদা, রসুন ও বর্ষাকালীন টমেটোর উৎপাদন বাড়াতেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষাকালীন টমেটো চাষ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্য আমদানির পরিবর্তে বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএমডিএর প্রতিনিধি এবং কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

