মক্কা চুক্তির শর্ত মেনে সৌদি আরবে সেনা পাঠাতে চাইলেও বিরোধী এমপিদের তীব্র আপত্তির কারণে তা পারছেন না তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তুরস্কের একাধিক বিরোধী দল এবং সেসব দলের এমপিরা এই জোটের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের বক্তব্য, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মেনে সেনা পাঠালে তুরস্ক ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে এবং তুরস্কের জনগণ ইয়েমেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে একেবারেই আগ্রহী নয়। কয়েক জন বিরোধী দলীয় এমপি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তুর্কি সৈন্য মোতায়েনের যেকোনো সম্ভাবনাকে ‘সাংবিধানিক অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করবেন তারা।
গত সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর অব্যাহত হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো— জোটের কোনো দেশ যদি শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে অপর দেশগুলো নিজেদের যাবতীয় সামরিক সামর্থ্যসহ সেই আক্রান্ত দেশের পাশে দাঁড়াবে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় এ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিরেন সৌদি ক্রাউনপ্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
তবে উল্লেখ্য যে, মক্কা চুক্তিতে তুরস্কের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুরস্কের আইনসভা গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এখনও অনুমোদন পায়নি। তাছাড়া, তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে তুর্কি সৈন্য মোতায়েনের জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন; কিন্তু প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সরকার এখনও এ ব্যাপারটি পার্লামেন্টে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করতে পারেননি।
এদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, হুথি যোদ্ধাদের ঠেকাতে ইতোমধ্যে সেনা পাঠানো হয়েছে এবং সেই সেনাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তবে তুরস্কের দু’জন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে থেকেই তুরস্কের একটি সৈন্যদল সৌদি আরবে ছিল। ২০১০ সালে সৌদির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় পাঠানো হয়েছিল তাদের। আপাতত তারাই তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ইয়েমেনে সরাসরি সেনা পাঠানো সম্ভব না হলেও সৌদি আরবকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই এবং তুরস্ক এসব সহায়তা প্রদান করবে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই, ইন্ডিয়া টুডে

