spot_img

স্মার্টফোন হারানোর আগেই তথ্য সুরক্ষিত রাখতে যে ৭ পদক্ষেপ জরুরি

অবশ্যই পরুন

একটি স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়া মানে কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে হাতছাড়া হতে পারে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য ও স্পর্শকাতর নানা নথিপত্র। এমনকি হাতবদল হওয়া ফোন থেকে পরিচয় চুরি করে অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকে। তাই ফোন হারানোর পর মাথা না ঘামিয়ে আগে থেকেই সুরক্ষাকবচ তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী সিআইও ডটকম-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে স্মার্টফোনের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে আগাম সাতটি করণীয় তুলে ধরা হলো:

১. শক্তপোক্ত স্ক্রিন লক ব্যবহার

ডিভাইসের গোপনীয়তা রক্ষার প্রাথমিক ধাপ হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন ব্যবহার করা। বর্তমান স্মার্টফোনগুলোতে পিন ও প্যাটার্নের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে জন্মতারিখ কিংবা ‘১২৩৪’-এর মতো সহজে অনুমানযোগ্য পিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

২. নিয়মিত ক্লাউড ব্যাকআপ

ফোন খোয়া গেলে বাজার থেকে নতুন সেট কেনা সম্ভব হলেও স্মৃতিবিজড়িত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি বা কন্টাক্ট নম্বর ফিরে পাওয়া কঠিন। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ‘গুগল ড্রাইভ’ এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা ‘আইক্লাউড’-এ নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখতে পারেন। এতে ফোন হারালেও প্রয়োজনীয় তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।

৩. লক স্ক্রিনে জরুরি বার্তা রাখা

ফোনটি কোনো সৎ ব্যক্তির হাতে পড়লে তিনি যাতে সহজেই মালিকের সন্ধান পান, সে ব্যবস্থা রাখা জরুরি। এ জন্য লক স্ক্রিনে বিকল্প কোনো ফোন নম্বর বা সংক্ষিপ্ত বার্তা লিখে রাখা যায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাসার ঠিকানা কিংবা ব্যক্তিগত ই-মেইল লক স্ক্রিনে না দেখানোই শ্রেয়।

৪. গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট নম্বর আলাদা রাখা

প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে অনেকেই স্বজনদের ফোন নম্বর মুখস্থ রাখেন না। কিন্তু ফোন হারিয়ে গেলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিম কার্ড ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করতে হয়। তাই পরিবারের সদস্য, ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও কর্মস্থলের জরুরি নম্বরগুলো আলাদা নোটপ্যাডে বা মানিব্যাগে লিখে রাখা উচিত।

৫. ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ সুবিধা সক্রিয় রাখা

ফোন দূর থেকেই শনাক্ত বা ভেতরের ডেটা মুছে ফেলার জন্য বিশেষ ফিচার চালু রাখা প্রয়োজন। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ এবং আইফোনের জন্য ‘ফাইন্ড মাই’ সেবাটি আগে থেকেই সক্রিয় রাখতে হবে। ফোন চুরির আশঙ্কা তৈরি হলে এই ফিচারের মাধ্যমে দূর থেকেই ভেতরের সব তথ্য মুছে (রিমোট ওয়াইপ) দেওয়া সম্ভব।

৬. স্পর্শকাতর তথ্য ফোনে জমা না রাখা

ফোনের সাধারণ নোটপ্যাডে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বর লিখে রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেনাকাটার অ্যাপগুলোতে ‘ওয়ান-ক্লিক পেমেন্ট’ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড মনে রাখতে নিরাপদ কোনো ‘পাসওয়ার্ড ম্যানেজার’ অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. মেমোরি কার্ড এনক্রিপ্ট করা

অনেকে মনে করেন স্ক্রিন লক থাকলেই ফোন নিরাপদ। কিন্তু আলাদা মেমোরি কার্ড (এসডি কার্ড) থাকলে তা খুলে নিয়ে কার্ড রিডারের মাধ্যমে তথ্য চুরি করা সম্ভব। তাই মেমোরি কার্ডের তথ্য এনক্রিপ্ট বা কোডযুক্ত করে রাখা উচিত, যাতে তা অন্য কোনো ডিভাইসে সহজে না খোলে।

স্মার্টফোন খোয়া যাওয়া বা চুরি হওয়া শতভাগ রোখা সম্ভব না হলেও এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

সর্বশেষ সংবাদ

‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে মমতার হুংকার, স্বাগত জানালেন সোনিয়া

ভারতের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোরালো বক্তব্যে করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন কংগ্রেস...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ