সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শলামচেহ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা বিষয়ক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর ইরাক সরকার শলামচেহ সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরবে চালানো হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইরাকে বড় ধরনের অভিযান চলছে। এর আগে শুক্রবার সৌদি আরব দাবি করে, ইরাক থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন দিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের প্রচেষ্টা যখন স্থবির হয়ে আছে, তখন পাইপলাইন বন্ধ হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
তবে সৌদি যুবরাজের অনুরোধের পরও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে যুক্ত করতে এখন পর্যন্ত রাজি হননি ট্রাম্প। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

