spot_img

ফিলিস্তিনে অননুমোদিত ইসরায়েলি বসতি উচ্ছেদের নির্দেশ নেতানিয়াহুর

অবশ্যই পরুন

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের অনুমোদনহীন বসতি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, পশ্চিম তীরে উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া বসতি ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নির্দেশের আওতায় পশ্চিম তীরের প্রায় ১০০টি অনুমোদনহীন বসতি রয়েছে।

মূলত ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া বসতি স্থাপনকারীরা যেসব বসতি তৈরি করেছেন, নেতানিয়াহুর নির্দেশ সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এসব অনুমোদনহীন বসতিতে সাধারণত আগে থেকে তৈরি করা ছোট ছোট ঘর বা ক্যারাভান থাকে এবং সেখানে অল্পসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী বসবাস করেন।

ইসরায়েলি সরকার বিভিন্ন সময়ে এমন কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। আবার কিছু অনুমোদনহীন বসতিকে অতীতে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছে, ফলে সেগুলো সরকারি অর্থসহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে এসব অনুমোদনহীন বসতি সরানোর অভিযান কবে শুরু হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে পশ্চিম তীরের জালুদ গ্রামের তিন ফিলিস্তিনি পরিবারকে নিরাপদে নিজেদের বাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলে রোববার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। বসতি স্থাপনকারীরা সম্প্রতি তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করে। তাদের মতে, পশ্চিম তীর ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি দখলকৃত এলাকা। তবে ইসরায়েলের দাবি, পশ্চিম তীর দখলকৃত নয়, বরং এ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই নেতানিয়াহু অনুমোদনহীন এসব বসতি সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র।

এর আগে গত শনিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি শহরে কয়েকজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকানের সঙ্গে বৈঠকের পর ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছিল, দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় ১০০টি অনুমোদনহীন বসতি সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পশ্চিম তীরে এ ধরনের বসতি উচ্ছেদে সাধারণত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সামরিক বাহিনী যুক্ত থাকে, তবে তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

জেরুজালেমে এক সম্মেলনে ইসরায়েলের কট্টর ও উগ্রপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচকে ওয়াইনেটের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ‘এ ও বি এলাকায় তৈরি করা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন’। পশ্চিম তীরের যে দুই এলাকায় অধিকাংশ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন, সেগুলোই এ ও বি এলাকা।

১৯৯০-এর দশকে ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি অসলো চুক্তির আওতায় পশ্চিম তীরকে এ, বি ও সি—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

তবে নিজেও একজন বসতি স্থাপনকারী স্মোট্রিচ নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন বলে জানান। তিনি পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ করেছেন এবং অনুমোদন ছাড়া তৈরি কিছু বাড়িকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দিয়েছেন। স্মোট্রিচ বলেন, এ নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও ‘সি’ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণে সরকার বড় ধরনের অগ্রগতি করেছে।

ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিরোধী এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে থাকা সংগঠন পিস নাউয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ৩৪০টি অনুমোদনহীন বসতি রয়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এমন বসতি রয়েছে ১৪৬টি।

গত মাসে পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ঘিরে ফেলে। ওই বাড়িগুলোর মধ্যে একটি ছিল এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকানের। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। তবে গ্রামের ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, এরপরও তারা ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন।

ইসরায়েলি সরকার অবশ্য ইতোমধ্যেই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার নিন্দা করেছে। তবে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুব কমই গ্রেপ্তার করা হয় এবং আরও কমসংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা বিচার করা হয়।

শনিবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাস চালানো বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ইসরায়েলের নিজের স্বার্থেই জরুরি।

সর্বশেষ সংবাদ

পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ডেস্ট্রয়ার নৌবহরে যুক্ত করলো উ. কোরিয়া

পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি ডেস্ট্রয়ার নৌবহরে যুক্ত করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। ৫...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ